নাটকীয়ভাবে দল পরিচালনায় কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে বিএনপি

অনেকটা নাটকীয়ভাবে দল পরিচালনায় কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে বিএনপি। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতিতে সক্রিয় করা হয়েছে ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’কে। বদলে দেওয়া হয়েছে দলের সর্বোচ্চ এই কর্তৃপক্ষের বৈঠকের আদলও। বৈঠকের আগে-পরে এজেন্ডা পৌঁছে যাচ্ছে কমিটির প্রত্যেক সদস্যের কাছে। আর এই এজেন্ডা তৈরিতে দলের হাইকমান্ডের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজ করছে দলীয় গবেষণা সেল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (বিএনআরসি)। বিস্তৃত করা হয়েছে এই গবেষণা সেলটির কার্যক্রম। বিভিন্ন বিষয়ে দেশি-বিদেশি লেখক-শিক্ষাবিদ, বাংলা-ইংরেজি দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক, কলামিস্টদের কাছে থেকে নেওয়া হচ্ছে লিখিত অভিমত।

এ বছরের ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার সাংবাদিকদের গুলশানে ডেকে ঘোষণা করেন, তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির নির্বাচিতরা ছয় সংসদ সদস্য শপথ নেবেন। তার এই ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তীব্র সমালোচনা হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটেও। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শপথ নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানানোয় সহযোগী বিরোধী দলগুলো মনে করে, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে বিএনপির দূরতম সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সবচেয়ে মুখর ভূমিকা রাখেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এ প্রসঙ্গে ২৯ এপ্রিল রাতেই বাংলা ট্রিবিউনকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিলেন, ‘দলীয় সংসদ সদস্যদের শপথের বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নই বলার সুযোগ নেই। তার (তারেক রহমান) কাছ থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে, কিন্তু তার সঙ্গে একমত নই, এ কথা তো বলার সুযোগ নেই।’

এর আগে, ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও-৩ থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথ নেওয়ায় তাকে ‘গণদুশমন’ বলেছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির আচমকা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘প্রথমত দলের সিদ্ধান্ত না জানার কথা না, আমিও জানি। আর আমি ভুল করলে আমি শুধরে নেবো।’ এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

উল্লেখ্য, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শপথ নেওয়া তাকে বেইমান বললেও শপথের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য ছিল, ‘বলা যেতে পারে, এটা নিঃসন্দেহে একটা চমক। ইউটার্ন একটা।’

দলীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসে বিএনপি হাইকমান্ড। দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে গত এপ্রিল ও মে মাসে তীব্র সমালোচনার পর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আগ্রহী হয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর দলের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শের আলোকে স্থায়ী কমিটিকে কার্যকরভাবে সামনে আনার পরিকল্পনা করা হয়।  এরপর থেকেই বদলে যায় বৈঠকের ধরন ও চলমান পদ্ধতি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এখন স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে আলোচ্য বিষয়ের এজেন্ডা আগে থেকে লিখিত দেওয়া হয়, যা আগে দেওয়া হতো না। এটাই হওয়া উচিত। তবে এটা আলোচনা করে দেওয়া হয়। এটাকে কিছুটা পরিবর্তন বলা যেতে পারে।’

খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে বলা যাবে না। আগের মতো আমরা বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়ে ওপেন আলোচনা বা মত দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দিয়ে দেই। আগে যেটা আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া করে থাকতেন।’

বিএনপির দায়িত্বশীল একটি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১৩ জুন থেকে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। তারেক রহমানের নির্দেশে তৈরি হয় এজেন্ডা পদ্ধতি। এই এজেন্ডা ‘বিশেষ খামে ভরে’  বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে বৈঠকের আগে পৌঁছে দেওয়া হয় কমিটির সদস্যদের কাছে। বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রস্তাবগুলোও এজেন্ডায় যুক্ত হয়। দলীয় মনোগ্রাম সংবলিত একটি বড় ফোল্ডারের ভেতরে এসব এজেন্ডার কাগজপত্র থাকে।

সর্বশেষ বন্যার্তদের সহযোগিতায় টিম গঠন, ত্রাণ বিতরণ, ডেঙ্গু রোগের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও রোগীদের বিশেষ সেবা দেওয়ার বিষয়টিতে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ইতোমধ্যে দলের পরিচিত ধনাঢ্য নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুকে প্রধান করে কৃষকদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বিষয়ক একটি কমিটি করা হয়েছে। বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান ৪০ বছর ধরে কৃষি সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই কমিটিতে তাকে প্রধান করা হয়েছে, এমন তথ্য বিএনপির দায়িত্বশীল পক্ষের।

নতুন পরিবর্তনের মধ্যে স্থায়ী কমিটির প্রত্যেক বৈঠকের পর বিস্তারিত জানানো হয় সাংবাদিকদের—যা বিগত সময়ে খুব কম দেখা গেছে। দলীয় মুখপাত্র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রিফ করেন সাংবাদিকদের।

২২ জুন স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফ করা হয়। সেখানে দলীয় মহাসচিব জানান, ওইদিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করা হয়। বৈঠকে বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে সহিংসতার বিচার দাবি করা হয়। ব্রিফিংয়ে ছাত্রদলের সংকট, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের ওপর ছাত্রদলের ‘বয়স্কদের’ হামলা এবং ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখারও সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা জানান মির্জা ফখরুল। এ দিনের বৈঠকেই খালেদ জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিভাগীয় শহরগুলোতে চার সপ্তাহের কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত দেয় স্থায়ী কমিটি।

২৯ জুন বৈঠকের মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলন করে জানান, সেদিন স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের বিদ্যমান রাজনীতি, হত্যাকাণ্ড, খালেদা জিয়ার মামলা ও মুক্তির বিষয়, ছাত্রদলের সংকট সমাধান, জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর বিষয়ে সরকারের এক মন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে মির্জা ফখরুল বৈঠকের খবর বাইরে যাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

৫ জুলাই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। এক্ষেত্রে আসন্ন ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দিচ্ছে না বিএনপি, এ বিষয়টি অনুমেয়। এই দিনের বৈঠকে বরগুনার রিফাত হত্যা মামলার আসামি নয়ন বন্ডের ক্রসফায়ার, নির্বাচনি আসনে শূন্য ভোটগ্রহণ, পাবনায় শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলা মামলার রায় প্রসঙ্গে আলোচনা হয়।

বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনায় সমাবেশ করার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয় ১৩ জুলাইয়ের বৈঠকে। স্থায়ী কমিটির ওই বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব জানান, আলোচনায় সেদিন নারী-শিশু ধর্ষণ বেড়ে যাওয়া, রোহিঙ্গা, সারাদেশের বন্যা, বন্যার্তদের সহযোগিতায় করা, পুঁজিবাজার থেকে লুটের প্রসঙ্গটি ছিল।

সরকারের হজ তত্ত্বাবধান কমিটিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় ১৯ জুলাইয়ের বৈঠকে। সেদিন ব্রিফে মির্জা ফখরুল লেখক, চিন্তক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকি প্রদানের নিন্দা ও বিচার দাবি এবং বন্যার্তদের সহযোগিতায় একটি টিম গঠনের বিষয়ে জানান।

২৬ জুলাই খালেদা জিয়ার শারীরিক সমস্যা তুলে ধরে স্থায়ী কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে। সপ্তাহখানেক পরপর নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক ও ব্রিফ করার বিষয়টি শুরু হয় ১৬ জুনের বৈঠকের পর থেকে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দলের বিজয়ীদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে ব্যাখ্যা দেন তিনি। একই সঙ্গে তার দলের নির্বাচিতদের শপথ নিতেও অনুমতি দেন। ওই দিনের বৈঠকে ছাত্রদলের তৎকালীন সংকট বিষয়ে আলোচনা হলেও বৈঠক মুলতবি রাখা হয়।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত ছাত্রদলের সংকটের কোনও সমাধান হয়নি। তবে বিএনপির হাইকমান্ড নিয়মিতদের হাতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিএনপির গবেষণা সেল বিএনআরসি। ২০১৬ সালে গঠনতান্ত্রিকভাবে অনুমোদনের পর সেলটির কার্যক্রমে গতি আসে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে বাস্তবতা যাচাই করে বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ দেয় বিএনআরসি। এই সেলের প্রধান হিসেবে দলের চেয়ারপারসন বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সমন্বয়ক হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সুপারভাইজার হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শামা ওবায়েদ ও জহির উদ্দিন স্বপন কাজ করছেন। এই কমিটির পরামর্শ গ্রহণ, যোগ-বিয়োগ ও আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

এ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  বিএনআরসি গত কয়েক বছরে বিএনপির দলীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ভিশন ২০৩০ প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রস্তাব, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচনি সংলাপের খসড়া,  বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি ও জিডিপি গ্রোথের ওপর তৈরি বিশেষ পেপারস।

সর্বশেষ ‘ভিশন ২০৩০’-এ বর্ণনার আলোকে সহায়ক সরকারের রূপরেখা বিষয়ক একটি খসড়া প্রণয়ন করলেও তা আর প্রকাশ করা হয়নি। তবে, সরকারের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত একটি ‘পেপারস’ ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি দূতাবাস কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থানের কথা থাকলেও এর কাজটি থমকে আছে বলে জানান বিএনপির ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির একাধিক দায়িত্বশীল।

বিএনআরসির সঙ্গে যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল জানান, এই সেলটির প্রধানত দু’টি কাজ। একটি গবেষণা, দ্বিতীয়টি যোগাযোগ (কমিউনিকেশনস)। এই দুটি কাজেই সার্বক্ষণিক যুক্ত আছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শামা ওবায়েদ ও জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে কয়েকজন আছেন বেতনভুক্ত, বাকিরা স্বেচ্ছাসেবী। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পেপারস তৈরিতে যুক্ত থাকেন অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ। এছাড়া, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, বিভিন্ন এনজিও, পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর কয়েকজন উদ্যোক্তা, সাবেক কয়েকজন আমলা নিয়মিত লিখিত ও মৌখিক অভিমত দিয়ে সহযোগিতা দেন এ সেলটিকে। প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহও এ সেলটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মুক্তি, বন্যা ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে দেশের ইংরেজি ও বাংলা বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইনের কয়েকজন সম্পাদকের কাছ থেকে লিখিত পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শতাধিক আসনে শতভাগ ভোট কাস্টিং নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বিএনআরসির পক্ষ থেকে। এই সেলের পরামর্শ দলের স্থায়ী কমিটিতে গৃহীত হওয়ার পর মহাসচিব স্বাক্ষরিত চিঠি দেওয়া হয়েছে সবক’টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও সংগঠকদের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব আসনে শতভাগ ভোট পড়েছে সেসব আসনের প্রবাসী, মৃত, কারাগারে থাকা ও নির্বাচনি কাজে যুক্ত থাকা দায়িত্বশীলদের তথ্য বিস্তারিত বিবরণে উল্লেখ করা হবে।

বিএনআরসির একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে শতভাগ ভোট কাস্টিংয়ের পোস্টমর্টেম, মানবাধিকার বিষয়ক, গুম-খুনের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে সেলের একজন সদস্য বলেন, ‘সাধারণত ওপর মহল থেকে আমাকে যা করতে বলা হয়, আমি তা-ই করি।’

যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিএনআরসি দেশি-বিদেশি একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। গত নির্বাচনের আগে প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মীকে ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ট্রেনিং দেওয়া হয়। নির্বাচনের পরেও এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

সর্বশেষ গত মাসে ট্রেনিং করেছেন অনেক বিএনপি কর্মীই। তবে, এসব ট্রেনিংয়ের সরাসরি কোনও ফল পার্টির কাজে লাগেনি বলে আক্ষেপ করেছেন বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা।

দলের চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই দলে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ছিল। যেখানে নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে দলে গঠনতান্ত্রিকভাবে প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদ তৈরি করা হয়। এ পদে শুরুতে প্রয়াত কাজী আসাদ, কাজী মুরাদ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে এই প্রশিক্ষণ বিষয়ক কাজটির পাশাপাশি সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে গবেষণা সেল কাজ শুরু করে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘পার্টিতে এগুলো রাখতে হয়। আপনি কতটুকু কাজ করলেন আর না করলেন, তার জন্য তো একটা সেল রাখতে হয়। তবে এদের দিয়ে বিশেষ কোনও লাভ হয়, তা কিন্তু নয়।’

সাবেক এই স্পিকার অবশ্য গবেষণা সেলের মাধ্যমে দলের উপকার দেখেন কেবল নির্বাচনের সময়। তিনি বলেন, ‘গবেষণা সেল, তথ্য সেল এদের দিয়ে লাভ হবে নির্বাচনের সময়। তাদের কিছু কাজ নির্বাচনের সময় কাজে লাগানো যায়।’ কাজের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি লোক পাওয়া যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।’

(বাংলাট্রিবিউন, ঘাটাইলডটকম)/-