নাগরপুরে সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলন

আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খান এর দখলদারিত্ব ও হুমকীর প্রতিবাদে খান বাড়িতে এক সংবাদ সন্মেলন করেছেন তারই দুই ভাতিজা এবং মৃত ভাই নুরুল ইসলাম খান (গেদা) এর স্ত্রী।

সংবাদ সন্মেলনে একটি লিখিত বক্ত্য পাঠ করে পলাশ, তালাশ এবং তাদের মা নজেরা বলেন, গত ১৯ অক্টবর ২০১৯ তারিখে তাদের বাবা মারা যান। বাবা মারা যাবার পর থেকেই, চাচা সাবেক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খান বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন শুরু করেন। বসত বাড়ির প্রধান ঘর থেকে প্রযোজনীয় সকল দলিল এবং কাজ পত্র নিয়ে তালা দিয়ে তিনি ঢাকায় চলে যান। ঐ ঘরে চাউল সহ নিত্য প্রযোজনীয় জিনিস থাকায় পলাশ, তালশ মা কে নিয়ে এতিম হয়ে, অতিকষ্টে দিন যাপন করতে থাকে ।

পরে, গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে (সাবেক মন্ত্রী) চাচা ও তার পরিবার, ভাই গেদা খান এর চল্লিশা উপলক্ষে বাড়িতে এসে আবার হুমকি দিয়ে পলাশদের বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। গেদা খান এর ছেলেদের ধুবড়িয়া বাজারের দোকান ঘরের সকল ভারাটিয়াদেরও পলাশদের ভাড়া না দেয়ার জন্য বলেন চাচা।

পর দিন, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ গেদা খান এর চল্লিশা শেষে, রাত অনুমানিক ১২ টার দিকে গেদা খান এর স্ত্রী নজেরা কে সাবেক মন্ত্রীর বড় মেয়ে নুসরাত খান ডেকে নিয়ে ছোট বোন এর সহযোগীতায় গেদা খান এর স্ত্রী (নজেরা) কে মারপিট করে এবং অমানুষিক অত্যাচার করে। তারা গেদা খান এর লিখে দেয়া সকল সম্পত্তি ফেরত চায়। অন্যথায় পলাশ, তালাশ কে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দেয় তারা।

৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ সকাল অনুমানিক ৬ টায় গেদা খান এর স্ত্রী সন্তানদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বসত বাড়ির সকল ঘরে তাল দিয়ে ঢাকা চলে যান সাবেক মন্ত্রী চাচা নূর মোহাম্মদ খান। সংবাদ সন্মেলনে এ সব কথা পলাশ, তালাশ এবং তাদের মা গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

উল্লেখ্য: নূর মোহাম্মদ খান ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেতাব আলী খানকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। ১৯৮১ সালে বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে নূর মোহাম্মদ খান আওয়ামী লীগের প্রার্থী ধনকুব আমিনুর রহমান (এআর) খানকে পরাজিত করেন। ১৯৮৮ সালে বড় কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচন করে। ওই নির্বাচনেও নূর মোহাম্মদ খান বিজয়ী হন।

(নাগরপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-