নাগরপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তুলা চাষ

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নদীর ধারে অনাবাদি জমিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তুলা চাষ। নদীর ধারে অনাবাদি জমিতে তামাকের চাষের পাশাপাশি তুলা চাষে আগ্রহী কৃষক। তামাক চাষে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় ও কম খরচে তুলা চাষে বেশি লাভবান হওয়ায় তুলা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস তুলা চাষের উপযোগী সময়। বন্যায় পানি উঠে না এমন জমি তুলা চাষের উপযোগী। আন্তপরিচর্যার মধ্যে চারা পাতলাকরণ, আগাছা দমন, ডগা কর্তন ও তুলার রোগ দমনসহ কিছু সাধারণ প্রক্রিয়া। তুলার বীজ থেকে তৈল ও খৈল পাওয়া যায়। এছাড়া শুকনো তুলা গাছ কৃষক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে।

কৃষকরা তুলা চাষের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়া, শিম, বরবটি, মরিচ, ভুট্টা, লাল শাক, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করে বাড়তি আয়ের মুখ দেখছে। বিঘাপ্রতি তুলা উৎপাদন খরচ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘাতে তুলা উৎপাদন হয় প্রায় ১২ থেকে ১৪ মণ। প্রতি মণ তুলার মূল্য গত বছর পঁচিশ শত টাকা ছিল। এ বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষকরা।

উৎপাদিত তুলা বিক্রি করতে কৃষককে কোন বেগ পেতে হয় না। চাষ থেকে বিপণন পর্যন্ত তাদেরকে সকল কাজে সহযোগিতা করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ।

পুখুরিয়া গ্রামের তুলা চাষী মো. আবুল হোসেন বলেন, জমিতে তামাক চাষ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া কম খরচে তুলা চাষে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তুলার মরা গাছ জ্বালানি হিসেবে আমরা ব্যবহার করি ও চাষের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করে বাড়তি টাকা পাই। আগামী বছর অন্যান্য জমিতেও তুলা চাষ করার চেষ্টা করব।

পাকুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় পাঁচশ বিঘা জমিতে এ বছর তুলা চাষ হচ্ছে। লাভজনক ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় দিন দিন কৃষক তুলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশে তুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ত্রিশ লাখ বেল তুলার চাহিদা থাকলেও উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র এক লাখ বেল। যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। আর এ চাহিদা মেটাতে তুলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ড দেশের আবহাওয়া-জলবায়ু উপযোগী বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল তুলা নিয়ে নিবিড় গবেষণা করছে। তুলার কাংক্ষিত উৎপাদন পেতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অর্থকরী ফসল হিসাবে তুলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তামাকের আগ্রাসন থেকে এ অঞ্চলকে মুক্ত করতে পারলে বিকল্প ফসল হতে পারে এই তুলা।

(নাগরপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-