নদী খননে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কালিহাতীতে আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

টাঙ্গাইলের নিউ ধলেশ্বরী নদী খনন কাজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে ১০জন আহত, বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিভিন্ন ধরণের শতাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় আ’লীগ সভাপতি সহ তিনজনকে আটক করেছে। শনিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর সংলগ্ন কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বুড়িগঙ্গা নদী খনন প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের নিউ ধলেশ্বরী নদীমুখ থেকে খনন কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ড্রেজার লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠান। এলাকার বালু ব্যবসায়ীরা এশিয়ান ড্রেজার লিমিটেডের কাছ থেকে নিউ ধলেশ্বরী নদীমুখ থেকে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজার ব্রিজ পর্যন্ত সাব ঠিকাদার হিসেবে খনন কাজ নিয়েছে।

নিউ ধলেশ্বরী নদীর মীরহামজানি এলাকায় খনন কাজকে কেন্দ্র করে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ মন্ডলদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় ওয়াজেদের বাড়িতে সুলতান মাহমুদের পক্ষের লোকজন এক ঘরোয়া বৈঠকে বসে। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ মন্ডল ও বিজিবি সদস্য আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম, আমিনুল, সোহেল, নোমান সহ ১৫-১৬জন ব্যক্তি দা, ফালা, লাঠি, বল্লম নিয়ে ওই বৈঠকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ওয়াজেদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এতে সুলতান মাহমুদের পক্ষের তুলা মিয়া (৫০) ও মোজাফফর (৫৫) সহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

অপরদিকে, ওই রাতেই বিজিবি সদস্য আব্দুল আলীমের বাড়িতে কে বা কারা ভাঙচুর চালায়। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, আ’লীগ নেতা হাকিম উদ্দিন ও মোতালেব হোসেনকে আজ শনিবার সকালে আটক করে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনা নিরসনের লক্ষে শনিবার সকাল ১১টার দিকে কালিহাতী সার্কেলের এএসপি রাসেল মনির সহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে পুলিশ চলে যাওয়ার এরপরই স্থানীয় প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা আব্দুল মান্নানকে (৬০) বিএনপি নেতাকর্মীরা বেদম মারপিট করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গোহালিয়াবাজারে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হন।

আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দু’পক্ষই পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ গোহালিয়াবাড়ী গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদ, চান মিয়া, নুরুল ইসলাম, আমিনুল, সোহেল, নোমানের ঘর থেকে রামদা, ফালা, টেঁটা, সুরকী, বাঁশের লাঠি, চাপাতি সহ বিভিন্ন ধরণের শতাধিক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে।

সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোহালিয়াবাড়ী বাজারে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য সুলতান মাহমুদ বলেন, আমি এশিয়ান ড্রেজারের কাছ থেকে নদী খনন প্রকল্পের ৫০০মিটার খননের কাজ পেয়েছি। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদের বাহিনী খনন কাজে ব্যবহৃত ভেকু সরিয়ে দেয় এবং খনন কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে। প্রতিবাদ করায় তার দলবল নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় পুলিশ খবর পেয়ে তাদের বাড়ি থেকে বিভিন্ন ধরণের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে। আমরা কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার ও সুলতান মাহমুদের লোকজনই আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ বিষয়ে কালিহাতী থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

কালিহাতী সার্কেলের এএসপি রাসেল মনির বলেন, নদী খননকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে সেটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোহালিয়াবাড়ী বাজারের আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রামদা, ফালা, চাপাতি, টেঁটা, সুরকীসহ লাঠিসোটা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করলেও মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইলডটকম)/-