ধনবাড়ীতে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, মাছ চাষীদের সর্বনাশ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর ঝিনাই নদী ও বংশাই নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় বন্যায় পাইস্কা ইউনিয়নটি প্লাবিত হয়েছে। পাইস্কা ইউনিয়নের প্রত্যেক গ্রামেই ফসলি জমি সহ পুকুর বাড়ী ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ব্যাপক সমস্যায় পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলি জমি। বন্যার কারণে দেখা দিয়েছে গো খাদ্য সহ খাবার সংকট।

পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকের খুল গ্রামের মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ৪০ জন সদস্যরা প্রায় ৩৫ লাখ টাকার দেশীয় জাতের রুই, মৃগেল, তেলাপিয়া, গাসকার্প, পাঙ্গাস সহ দেশী ও উন্নত জাতের মাছ ও ৫ লাখ টাকার রেনু পোনা মাছ বেলদহ বিলে ছেড়ে চাষাবাদ করছিল । এবারের বন্যায় এই ৪২ বিঘা এরিয়ার পুকুরের সব মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।

মাছ চাষী মোজাম্মেল হক, রুবেল, শরাফত, সুজন সহ আরো অনেকে জানায় , এবারের বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় আমাদের মাছের ঘের থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার মাছ বেরিয়ে গেছে। আমরা এখন পথে বসে গেছি। আমাদের দাবী বন্যার কারনে আমাদের এত বড় ক্ষতি হলো আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য কৃষি মন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র নিকট আবেদ করি যাতে আমাদেরকে সরকারী সহযোগীতা দেওয়া হয়।

ধোকের খুল গ্রামের বাসিন্দা ধনবাড়ীর পুষ্প-প্রি ক্যাডেটের শিক্ষার্থী তানিয়া, মারিয়া, মিতু, তুহিন, কদর এরা জানায়, বন্যার পানির কারনে আমরা স্কুলে যাইতে পারছিনা। বন্যাকবলিত আমাদের এলাকায় সরকারী সহযোগীতা জরুরী দরকার।

ধোকের খুল গ্রামের আব্দুল হাই, শেফালী, শাজাহান, কল্পনা সহ স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আা বন্যায় ভাসতেছি এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ সামগ্রী পাইনি। আমরা সকারের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি।

পাইস্কা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চান মাহমুদ জানান, দিন দিন বন্যার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে বাড়ী ঘরে পানি ঢুকে যাবে। বন্যার্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ সামগ্রী পাইনি তবে যাতে করে বন্যা কবলিতদের মাঝে সরকারী সহযোগীতা দ্রæত প্রয়োজন ।

ধনবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, ধনবাড়ী উপজেলায় এখনো বন্যার পানি বাড়া অব্যহত আছে। আমরা প্লাবিত পুকরের তালিকা করছি এখনো তা চলমান আছে।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী আরিফা সিদ্দিকা জানান, আমি পাইস্কার ধোকের খুল গ্রামের সেই বেলদহ বিল দেখেছি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সব মাছ বন্যার পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে কোন পূর্নাবাসনের সুযোগ এলে তাদের কে সহয়তা দেওয়া হবে।

(হাফিজুর রহমান, ঘাটাইলডটকম)/-