ধনবাড়ীতে গণধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী; জুতাপেটা আর লাখ টাকায় মীমাংসা!!

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে গণধর্ষণে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় ধর্ষকদের কয়েক ঘা জুতাপেটা আর এক লাখ টাকা জরিমানা করে স্থানীয় কাউন্সিলর ও মাতাব্বররা বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার পরীক্ষা বাদ দিয়ে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মামুনের মাধ্যমে নির্যাতিত মেয়েটির গর্ভপাত ঘটাতে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়ারও খবরও পাওয়া গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, ধনবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাকারিয়া বকুল, স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মামুন, সুমন মিয়া, ধর্ষক আলামিনের বাবা মাহতাবসহ স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বর ধর্ষক রফিকুল, জিয়াউল হক ও আল আমিন গংদের বাঁচাতে প্রহসনের বিচার করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্যাতিত মেয়েটির পরিবার সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোহরাব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০) প্রতিবেশি হতদরিদ্র এক পরিবারের স্কুল পড়ুয়া ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। প্রতিবারই আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার নাটক করে গ্রুপের অন্য সদস্যদের ‘সুযোগ দিতে’ মেয়েটিকে ধর্ষিত হতে বাধ্য করানো হয়।

এলাকার রহমান আলী মন্ডলের ছেলে জিয়াউল হক (৩২), মাহতাব আলীর ছেলে মেয়েটির সম্পর্কে মামা আল আমিনসহ (২৮) আরো ২-৩ জন বার বার মেয়েটিকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকারিয়া বকুল, পল্লী চিকিৎসক মামুন, সুমন মিয়া ও মাহতাবসহ স্থানীয় কয়েকজন মাতাব্বর শালিসের আয়োজন করেন।

গত সোমবার রাতে এ নিয়ে সালিশি বৈঠকে ধর্ষকদের জুতাপেটা, এক লাখ টাকা জরিমানা এবং মেয়েটির গর্ভপাত ঘটিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জরিমানার ৫০ হাজার টাকা নির্যাতিতার পরিবারের হাতে দিয়ে মেয়েটিকে গর্ভপাত ঘটানোর নির্দেশ এবং ঘটনাটি চেপে যেতে চাপ দেয়া হয় পরিবারটিকে।

জানতে চাইলে স্থানীয় কাউন্সিলর জাকারিয়া বকুল ঘটনা মীমাংসার কথা অস্বীকার করেছেন।

দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ধনবাড়ী পৌরসভার মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে বাদী-বিবাদী কেউ আমাকে এখন পর্যন্ত কিছু জানায়নি।

এদিকে মেয়েটির বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলছিল। মঙ্গলবারও সে পরীক্ষা দিয়েছে। বুধবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে সে পরীক্ষায় অনুপস্থিত। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মেয়েটির অনুপস্থিতির কারণ বলতে না পারলেও খোঁজ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে নির্যাতিত ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে মা-বাবা কাউকে পাওয়া যায়নি। তার ছোট ভাই জানায়, তার বোনকে ময়মনসিংহে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দরিদ্র অসহায় পরিবারটি এ নিয়ে ভয়ে আত্মগোপন করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান ঘটনার কথা কিছু শুনেছেন কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান। লিখিত পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ঘটনাটির খোঁজ নেয়ার জন্য থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফারুকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

(ধনবাড়ী সংবাদদাতা, ঘাটাইল.কম)/-