দ্বিখণ্ডিত হলো ভারত অধিকৃত কাশ্মির, গৃহবন্দি সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ একাধিক শীর্ষনেতা

ভারত অধিকৃত কাশ্মিরকে দুইভাগে ভাগ করলো ভারত সরকার। আজ সোমবার সংসদে এ প্রস্তাব পেশ করা হয়। এতে লাদাখ ও জম্মু কাশ্মিরকে আলাদা আলাদা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় অঞ্চলই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা শাসিত হবে। তবে জম্মু ও কাশ্মিরের নিজস্ব একটি আইনসভা থাকবে আর লাদাখের আইনসভা থাকবে না।

এসব প্রস্তাব আকারে রাজ্যসভায় পেশ করার কিছুক্ষণ পর ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজনাথ কোবিন্দ এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশনে স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মিরের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’; যা ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ পরিচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব রাখার সাথে সাথে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। তাদের শোরগোলের মধ্যে অমিত শাহের বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না।

স্পেশাল স্টেটাস এর অধীনে জম্মু কাশ্মির রাজ্যের নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা সহ, স্থাপবর সম্পত্তির মালিকানা, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখতো, যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ছিলো না।

এদিকে রাজ্যসভায় ভাষণ শেষে লোকসভায় ভাষণ দেবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

এছাড়া কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সকালে ভারতের মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক হয়েছে। এতে ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে, কার্যত নতুন করে কাশ্মীরের ইতিহাস রচনার পথে মোদি সরকার। এ নিয়ে ক্রমশ জটিল হচ্ছে কাশ্মীরের পরিস্থিতি। দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ রাজ্যের একাধিক শীর্ষনেতা গৃহবন্দি। গ্রেফতারও হয়েছেন কেউ কেউ। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজারের।

রাজ্যটির অধিকাংশ এলাকায় ইতিমধ্যে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। এর পর কী হতে চলেছে কাশ্মীরে? তা নিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলে গত সপ্তাহে কাশ্মিরে আধা সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ৩৫ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর এসব বাড়তি সদস্যদের রাজ্যের রাজধানী শ্রীনগর এবং কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে এমনকি গ্রামাঞ্চলেও মোতায়েন করা হয়েছে।

(যমুনাটিভি, ঘাটাইলডটকম)/-