দেলদুয়ারে ব্রীজের অভাবে সীমাহীন দুর্ভোগে

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে একটি ব্রীজের অভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ ১০ টি গ্রামের বাসিন্দা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কখনো বাঁশের পুল আবার কখনো নৌকায় পারাপার হচ্ছে। এই দূর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবি তাদের।

উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গজিয়াবাড়ী নামক স্থানে এলেংজানী নদীর ওপর একটি ব্রীজ নির্মাণ করতে এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বার বার আবেদন নিবেদন করেও তাদের এ দাবি পূরণ হচ্ছে না।

স্থানীয়রা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ওই স্থানে ব্রীজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত কোন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আমাদের কথা আর মনে রাখে না। তাই এলাকাবাসীর দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে।

নদীর ওই স্থানের উভয় পাশে দুটি সরকারি প্রাধমিক বিদ্যালয়, একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আটিয়া মহিলা কলেজ এছাড়া একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিদিন ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত কারিরা বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হয়। প্রতিবছরই লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সাকো নির্মাণ করা হয়। বর্ষা আসার আগেই তা ভেঙ্গে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এবার বন্যায় সাকোটি তলিয়ে গেছে, কিছু অংশ স্রোতে ভেসেও গেছে। ফলে পারাপারের একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠেছে নৌকা। নদীর প্রবল স্রোতের মুখে গাদাগাদি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের নদী পার হয়ে শিক্ষাঙ্গনে পৌছতে হচ্ছে। ফলে যথা সময়ে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌছতে পারছে না।

এছাড়া নদীর দক্ষিণাঞ্চলের ৫ টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ঝুকিপুর্ণ বাসের সাকো অথবা নৌকা।

আটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইকবাল হোসেন খান বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ঝুকিপুর্ণ যাতায়াতের অবসান কল্পে গজিয়াবাড়ী ও হিংগানগর, চরপাড়া, বিন্দুরিয়ার মধ্যবর্তী এলেংজানী নদীতে ব্রীজ নির্মাণের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, গজিয়াবাড়ী গ্রামে এলেংজানী নদীর ওপর ব্রীজ নির্মাণ খুবই জরুরী। ওই স্থানে ব্রীজ নির্মাণ হলে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ নদীর উভয় পাড়ের দশটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দূর্ভোগের অবসান হবে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

(দেলদুয়ার সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-