দেলদুয়ারে বছরে উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার টন মাছ

0Shares

প্রাকৃতিক উৎস থেকে ও চাষের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আর বছরে ৪ হাজার ৫শত টন মাছ উৎপাদন করে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার। ব্যক্তি উদ্যোগে ও বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা এসব খামার প্রতিষ্ঠা করে এক দিকে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন চাষিরা, তেমনি কর্মসংস্থান হচ্ছে শত শত মানুষের। তবে মাছের খাবারের নিম্নমান ও উচ্চমূল্যসহ নানা অসুবিধার প্রতিকার চেয়েছেন তারা। আর এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিল উপজেলা মৎস্য অফিস।

কয়েক বছর ধরে দেলদুয়ারে মাছের চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। দেলদুয়ারে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই।

স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় উপজেলার বেকার যুবক, কৃষকসহ অনেকেই মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠছেন। উপজেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে মাছ চাষের পরিমাণ। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসাদুজ্জামান, শওকত হোসেন, হাসিনা বেগম, শরিফুল ইসলাম, নুরুল আমিন, রায়হান মিয়া, রাসেল খান সহ বেশ কয়েক জন মিলে আলাদা আলাদা পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ শুরু করেন। অল্প সময়েই মাছ চাষে তাদের উৎপাদন উপজেলায় তাক লাগিয়ে দেয়। তাদের দেখে উপজেলার অনেকেই মাছ চষে আগ্রহী হয়ে মৎস্য অফিসারের পরামর্শে মাছ চাষ করছেন। তবে প্রতিটি উপজেলায় এভাবে মাছ চাষ বাড়তে থাকলে “মাছে ভাতে বাঙ্গালী” কথাটি ফিরে পেতে বেশি সময় লাগবে না।

ছোট ছোট পুকুরে ও খালে বাঁধ দিয়ে তৈরি জলাশয়ে পোনা ছেড়ে মাছ চাষ করছেন এলাকর লোকজন। এসব পুকুর ও জলাশয়ে রুই, কাতল, কালবাইশ পাঙ্গাস, মনোসেক্স তেলাপিয়া, মৃগেল, পুটি, জাতীয় মাছের চাষ হচ্ছে। ব্যক্তিগত ও যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা মাছের খামার উপজেলা অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মনে করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ২টি করে মোট ১৬টি সিআইজি (কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ) মৎস্য চাষি দল রয়েছে। প্রতি সিআইজি দলে ২০ জন করে মোট ৩২০ জন মাৎস্য চাষি আছেন। তারা সকলেই উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে একযুগে মাছ চাষ করছেন। তাদের দেখে আগ্রহী হয়ে অনেকেই মাছ চাষে ঝুঁকছেন।

অনেক জেলের অভিযোগ, সরকারি জলমহালগুলোতে ইজারা দাররা নিজস্ব লোক দিয়ে মাছ ধরে। ফলে বহু জেলে মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের মতে, উপযুক্ত পুঁজি ব্যবস্থা করা, ইজারা ব্যবস্থা ও উৎপাদনে সমাজভিত্তিক করা এবং সকল মৎস্য জীবিকে মাছ ধরা সুযোগ করে দেয়া, এমনকি আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে মানুষের আয় বড়বে। বাড়বে কর্মসংস্থানের পথ। কমবে বেকারত্ব। জলাশয়গুলোর ব্যবহার হবে সঠিক। পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে করবে ব্যাপক সহয়তা।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মাছ চাষে উদ্যোগী করতে ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, সরকারি বিলগুলো পুনর্খনন, বিলগুলোতে সমাজভিত্তিক মাছ উৎপাদন ব্যবস্থা করা দরকার। এমনকি মৎস্য চাষিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা দেয়া হলে দেলদুয়ার গড়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম মৎস্য এলাকা। ইতোমধ্যে অনেকেই উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষে সাফল্য পেয়েছেন। এছাড়া লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছে অনেকেই।

উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম ফেরদৌস আহমেদ বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আমিষ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এখনই প্রয়োজন মৎস্য খামার গড়ে তুলতে সর্বস্তরের উদ্যোগ।

(কামরুল ইসলাম, ঘাটাইলডটকম)/-