দুর্নীতির দায়ে সখীপুরের সেই প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন চুরান্তভাবে বরখাস্ত

টাঙ্গাইলের সখীপুরের সুরীরচালা আবদুল হামিদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কফিল উদ্দিনকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

এর আগে নানা অনিয়ম ও বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ এনে গত ৩১ অক্টোবরের ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাঁকে (ওই প্রধান শিক্ষককে) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ফলে ওইসময় জেএসসি পরীক্ষার কচুয়া ভেন্যু কেন্দ্রের হলসুপারের পদ থেকেও ওই প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে কফিল উদ্দিন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর তাঁর স্ত্রীকে গোপনে সহকারী গ্রন্থগারিক পদে নিয়োগ দেয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলে তার বিপরীতে কোনো খরচের ভাউচার বিদ্যালয়ে জমা দেননি। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি ও অন্যান্য খাত থেকে আয় হওয়া ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪১০ টাকাও ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেন।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও গোপনে স্ত্রীকে নিয়োগসহ নানা অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি ওইসব অনিয়মের সত্যতা খুঁজে পায় ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।  তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ৩১ অক্টোবরের সভায় প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম  বলেন,  বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দেয়া প্রধান শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার চিঠির অনুলিপি আমার কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। এখন ওই বরখাস্তের কপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আপিল অ্যান্ড অরপিটিশন বোর্ডের অনুমতির জন্য পাঠানো হবে।

চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে  কফিল উদ্দিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তিনি আরও বলেন সাময়িক বরখাস্তের চিঠি পাওয়ার পর ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তারিকুল ইসলামকে বিবাদী করে টাঙ্গাইলের আদালতে গত ১৯ নভেম্বর একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি মীমাংসা না হওয়ার আগেই আমাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা বৈধ হয়নি।

সুরীরচালা আবদুল হামিদ চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম কফিল উদ্দিনের বরখাস্ত বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের যাবতীয় দায়িত্ব হস্তান্তরপূর্বক অব্যাহতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-