দখল-চাঁদাবাজি-বৈষম্য ও উন্নয়নবঞ্চিত ঘাটাইলের গারোবাজার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া এই তিনটি উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত গারো বাজার বা গারোর হাট। ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এ হাটের অবস্থান।

একসময় গারোর হাটটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও হাটকে কেন্দ্র করে চারমুখী পাকা সড়ক নির্মাণ হওয়ায় হাটের গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও হাটের এক অংশে কিছুটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও বাকি অংশ রয়ে গেছে অবহেলিত।

এলাকাবাসী অভিযোগ, গারোর হাটটি বৃটিশ শাসনামলে স্থাপিত হলেও এটির উন্নয়নের প্রধান বাধা ভৌগোলিক বৈষম্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ভূমিদস্যুদের আগ্রাসী মনোভাব এবং চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য।

ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার তিনটি উপজেলার সংযোগস্থলে এ হাটের অবস্থান। হাটটি মধুপুর ও ঘাটাইল দুই অংশে বিভক্ত।

মূল হাটের অবস্থান মধুপুর উপজেলার অংশে হলেও হাটটি ধীরে ধীরে ঘাটাইল অংশে প্রসার ঘটেছে।

ঘাটাইল উপজেলার অংশে সরকার প্রায় অর্ধকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে। অথচ বারবার সরকারের নিকট গ্রোথসেন্টারের জন্য আবেদন করেও মধুপুর অংশে কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না।

স্থানীয় ইজারাদাররা মধুপুর অংশে পানীয় জলের জন্য টিউবয়েল ও একটি টয়লেট স্থাপন করলেও বর্তমানে তা ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে মূল হাটটি দখল করে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা।

স্কুলশিক্ষক সাজ্জাদ রহমান জানান, বৃটিশ আমলে স্বর্ণ কবিরাজ নামে এক গারো সম্প্রদায়ের আঙিনায় প্রতিষ্ঠিত হয় গারো হাট। মূলত এ জমির মালিক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বন বিভাগ। ৩৮৩২ নং দাগের ২ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত প্রায় সাত একর জমি সরকার গারোর হাটের নামে পেরিপেরি ভুক্ত করেছে।

বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতারা হাটের জায়গা জবরদখলমুক্ত করে গ্রোথসেন্টার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের কাছে নতি স্বীকার করে বার বার পিছু হটেছেন বলে তিনি জানান।

গারোর হাটের পেরিপেরিভুক্ত জমির দখলদার রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। হাটের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত সড়কে হাট বসে। সড়কে হাট বসায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে দুই মিনিটের সড়ক পার হতে কোনো কোনো সময় যান চালকদের এক ঘণ্টারও বেশি বসে থাকতে হয়।

হাটের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ চেয়ে এলাকাবাসীল পক্ষে শহিদুল ইসলাম সোহেল মধুপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট লিখিত আবেদন করেছেন।

গারোর হাটকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি কলেজ, দুটি উচ্চবিদ্যালয়, দুটি দাখিল মাদরাসা, দুটি এবতেদায়ি মাদরাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি কিন্ডারগার্টেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ডাচ বাংলা, গ্রামীণ ব্যংকসহ এক ডজনের বেশি এনজিও রয়েছে।

বাজারের প্রধান পণ্য আনারস, কাঁঠাল, কলা, হলুদ, আদা, কচুসহ নানা প্রকার কৃষিপণ্য ও সবজি। এছাড়া গরু-ছাগলের হাটও বসে। প্রতিহাটবার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। কিন্তু প্রশাসনিক নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতারা সব সময় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

প্রায় ৫ বছর পূর্বে পুলিশ ফাড়ি নির্মাণের জন্য চাঁদা তুলে ভবন প্রস্তুত করা হলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার কাজ আর এগোয়নি বলে জানায় এলাকাবাসী।

মধুপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ করিম বলেন, গারোর হাটের জবরদখল নিয়ে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা কলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email