তিন দশক পর অনুষ্ঠিতব্য ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে ছাত্রদল

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সোমবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলেও একটি বিষয়ে সব নেতা একমত হন যে, প্রায় তিন দশক পর অনুষ্ঠিতব্য ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

১৯৯০ সালে ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছিল এবং জয়ীও হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্যানেল ছিল আমান-খোকন-আলম পরিষদ। সেই সময়ে রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন ও নাজিমউদ্দিন আলমের নেতৃত্বাধীন প্যানেল জয়ী হয় ডাকসু নির্বাচনে।

ডাকসুর কর্তৃত্ব নিয়ে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সর্বদলীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সব ছাত্র সংগঠনকে এক কাতারে নিয়ে এসে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। একটি পর্যায়ে সেই আন্দোলন এতটাই তীব্র থেকে তীব্র হয়ে উঠেছিল যে, সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজেছিল।

বিএনপির ভ্যানগার্ড ছাত্রদলের সেই সোনালি সময়টা এখনও ভোলেনি রাজনীতি সচেতনরা। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও সেই আন্দোলন আবারও দেখতে চান। এ কারণেই ডাকসু নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্র করে এ দেশের রাজনীতির বাঁক বদলেছে বহুবার। ডাকসু নির্বাচনে কারচুরির ইস্যু কাজে লাগিয়ে বহু গণআন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এবারও সেই স্বপ্নে বিভোর দলটির নীতিনির্ধারকরা। তাদের বিশ্বাস ডাকসু নির্বাচন স্বচ্ছ হলে ছাত্রদল জয়ী হবে।

আর ভোটে অনিয়ম হলে কিংবা একাদশ নির্বাচনের ছায়া পড়লে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হবে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে সেটি সারা দেশে প্রভাব ফেলবে। তখন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তীব্র করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

কিন্তু তখনকার ছাত্রদল আর এখনকার ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। তখনকার ছাত্রদল সরকার ও প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথ কাঁপিয়েছিল। আর এখনকার ছাত্রদল বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তাদের নিরাপত্তা দিয়ে ক্যাম্পাসে নিতে হয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি। তবু আশাবাদী বিএনপির হাইকমান্ড।

ডাকসু নির্বাচনে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

ডাকসু নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত সব নেতা একমত হন। এ জন্য ছাত্রদল নেতাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এ ছাড়া নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলে প্রার্থী নির্ধারণ করতে একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা তৈরি করেন নেতারা।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম)/-

253total visits,1visits today