তানিয়া সুলতানার তিনটি কবিতা

বাউলা প্রেম

সব ভালবাসা মিলেনাতো সাগরের মোহনায়।
কিছুর বা স্থান হয়,
অবহেলার বিষম দরিয়ার ঝড়ে!
কিছু বা হারিয়ে যায়
মুসাফিরের সাথে,
কোন সুদুরের তপ্ত মরুভূমির বালুকা বেলারঝড়ে!

কিছু ভালবাসা, রাতে ফোঁটা হাসনাহেনার মতো
সৌরভ ছড়িয়ে ঝড়ে পড়ে অবহেলে!
কিছু অপরাজিতা,বকুল,বেলি,জুইঁ,হাস্নাহেনা
মালা হয়ে প্রেম বিলি করে।

কিছু কুড়িঁ রা আবার ফুটেনা কুসুম কাননে!
পঁচে যায় আপন বৃন্তেরই মাঝে।
কেউবা গোপন প্রেমের ব্যর্থ সাধনার বোঝা
নিরবে সয়ে ধুঁকে ধুঁকেই
আমরন বাঁচে।

কেউ বা ঘুমন্ত পৃথিবীতে মোমের আলোয়
শুধুই লিখে যায় ব্যর্থতার ডায়রী।
কেহবা একচেটিয়া, ভালবাসাহীন,
নির্দয়া সংসারে!
কর্পদকহীন! কুলাংগার! গালি অপবাদ
নিয়েই ত্যাগ করে শেষ নিঃশ্বাস!

কেউ বা হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা
খুঁজে ফিরে কেবলি আনকোরা
ঝড় জলে, জংগলে!
কিছু ভালবাসা ভবঘুরে হয়ে পথে, পথে
ঘুরে বেড়ায় বাউল রাজার সাধকের বেশে!

কেউ বা বিরহ ব্যথায় মুচড়ে পড়ে।
শেষ বানী, হতাশা সম্বলে! নিঃসংগ রাতের আঁধারের কোলেই নিজেকে করে সমর্পণ।

ভালোবাসা অবিরাম খুঁজে খুজেঁ অবশেষে,
বাউল প্রেমের সাধক কখনো বা
ভবঘুরে দেবদাস হয়ে অনন্তকাল ধরে, হেঁটে চলে
নক্ষত্র ফোটা রাতের চাদরে।

তবুও হয়তো-বা খুঁজে না পায়
হ্রদমাঝারে কভু, বুকের পিঞ্জিরায় পোষা
আপন সেই মনবেরির পাখটিরে?

পার্থিব বাসনায়

জন্মিলে মরিতে হইবে
এবড়ো কঠিন সত্য!
পার্থিব সমৃদ্ধির বাসনায় তবুও
আপন পিয়াসী মন,
যেন লিপ্ত করে সকল ব্যাভিচারে!

রাজ্যপাট যেন চলছে
স্বার্থে র সচলায়তন,
জবরদখলদারীতে।
যার বলি তে, ম্রিয়মাণ প্রজাদের ভোরের
স্বপ্ন গুলো।

ওরে পথিক, এবার থামো, একটি বার।
কতো আর করবে আত্ম হনন?
অপ্রয়োজনীয় অহমিকা ত্যাগ করি
এসো সকলে!
অপ্রতুল প্রাসাদ আর স্হাপনা বাসনা
ত্যাগ করে এবার চলো নিজ নিজ আত্মার
অস্তিত্বের সভ্যতা গড়ে তুলি।

পার্থিব সমৃদ্ধির নির্মান কৌশল
শুধু ই নিজেদের আখের গোছানো র
গোপন পাঠশালা!
আছে শুধু নিজের অপার্থিব ধ্বংস-লীলা!

ওরে পথিক!থামিয়ে দাও
নিজ নিজ রিপুকে।এসো এবার
সেতু কালভার্ট, মিউজিয়াম,পিরামিড,
পার্থিব সমৃদ্ধির বাসনা ত্যাগ করি।

এবার চলো
নিজেকে আবিস্কার করি,নির্মাণ করি!
আত্ম হনন না করে, সকল পার্থিব – দর্পচূর্ণ করে
এসো অপার্থিব ধ্যান সাধনায়
কিয়দংশ আত্মা নির্মাণ করি।

ক্ষুদ্র অনুজীবী ও মানব বন্ধন

সাদা সাদা নরম পালকে
পায়রা, কবুতর, শালিক, চিল উড়ে বেড়ায়
কতো শত দূরের আকাশের নিঃসীম অজানায়?
ছোট্ট বাবুই,চড়ুই, ময়না, টিয়ে।

ফুড়ুৎ, ফুড়ুৎ উড়াউড়ি করে
জড়ো করে খরকুটো বড় আশা নিয়ে।
একে একে খুঁটে খুঁটে বয়ে নিয়ে,
ঠোঁটে কি নিবিড় ভালবেসে
অতি যত্নে সে বোনে,
ছোট্র সে আপন বাসা খানিরে!

হঠাৎ অজানা ঝড়ের তান্ডবে
ভেঙে যায় যদি সে ছোট্ট নীড় খানি!
তবুও আবার আশায় ভর করে,
পতপত করে পাখনা মেলে,
নীড় গড়ে চলে, রোদেলা গ্রীষ্মের দুপুরে!
সারি বেঁধে চলে,
পিপড়েঁর দল যেন রেলগাড়ী!
ছয় পায়ে পিলপিল চলে,
করে আহরণ
শীতের খাদ্য শষ্য!
ক্ষূদ্র যত অনুজীবী, দল বেঁধে, জোড়া বেঁধে
চলছে আপন আলয়ে নিরবধি!

আমরা জনতা,আমাদের ঘর গৃহস্হালী ও মিছিলে
আজ আছে কি কোন একতা?
ভাইয়ে –ভাই য়ে ঠাঁই –ঠাঁই!
মানব বন্ধনে নেই, সমঅধিকার ও সমতা!,

ছোট্র অনুজীবী
তৃনভূজী সব পিঁপড়ে
পাখ,পাখালির দল,
এক সাথে ঐকতানে চলে সবে
ওদের হয়না কভু রদবদল!
মিছে বুলি নেই,আছে শুধু কিচিরমিচির
আছে শুধু ঐক্য কুহুতান!
পাখিদের গানে, কলকাকলিতে
মুখরিত ত্রিভুবন!এ যেন
শ্রষ্ঠার এক অপরূপ! সৃষ্টি!
পাখপাখালির দল!

(লেখকের অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশিত/ ঘাটাইল ডট কম)