ঢাকায় ২৭টি দেশের আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন শুরু আজ

দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও ডেল্টা কোয়ালিশনভুক্ত অঞ্চলের ২৭টি দেশের দুই দিনব্যাপী ‘ঢাকা পানি সম্মেলন ২০১৭’ শুরু হচ্ছে আজ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে খাদ্য নিরাপত্তাসহ এসডিজির ৭টি অভিষ্ঠ লক্ষ্য সামনে রেখে এই পানি সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘টেকসই উন্নয়নে পানি’।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেতৃত্বে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও ডেল্টা কোয়ালিশনভুক্ত অঞ্চলের ২৭টি দেশের মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রীসহ ৮২ জন বিদেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এই সম্মেলনে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পানির গুণগত মান, ব্যবহার এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর চারটি কারিগরি আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এসব আলোচনা থেকে আটটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও মতামত নেয়া হবে। আগামীকাল রবিবার সম্মেলনের শেষ দিন গৃহীত হবে ‘ঢাকা পানি ঘোষণাপত্র’।

এর আগে সম্মেলনের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার দশম শেরপা পানি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। হোটেল সোনারগাঁওয়ে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ সভার সূচনা করেন।

সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহম্মদ খান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম এনডিসি সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয় সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানির তীব্র অভাব রয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও ডেল্টা কোয়ালিশন মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্স ও ওয়ার্কিং গ্রুপের তিনটি থিমেটিক সেশনও গতকাল  অনুষ্ঠিত হয়। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহম্মদ খান ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক উক্ত সেশনসমূহে সভাপতিত্ব করেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন,   আশা প্রকাশ করেন, এসডিজি-৬ এর আলোকে অঞ্চলভিত্তিক পানি সম্পর্কিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মন্ত্রী জানান, নিরাপদ পানির গুরুত্ব উপলদ্ধি করে এসডিজি বা টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষ্যের (Goals) মধ্যে একটি সরাসরি পানির সাথে সম্পৃক্ত। সেটি হলো লক্ষ্য-৬। এটি ছাড়াও এসডিজির আরও সাতটি লক্ষ্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পানি ব্যবস্থাপনা ও সুপেয় পানি সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, পানি বিষয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, সহযোগিতার হাত আরও শক্তিশালী করার জন্য উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি, পানি বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী এবং নীতি নির্ধারকদের একত্র করা।

এই সম্মেলনের অন্যতম আরেকটি উদ্দেশ্য পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও এর সমাধানের উপায় বের করতে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এসডিজি-৬ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা।

সরকারি প্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এনজিও প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিনিময়ের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের যৌথ উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের পানিবিষয়ক প্যানেল (এইচএলপিডব্লিউ) গঠন করা হয়েছে। এই প্যানেলে ১১ জন রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উচ্চপর্যায়ের পানি বিষয়ক এই কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

প্যানেলকে সহায়তা করার জন্য সদস্যদেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা/পানি বিশেষজ্ঞ শেরপা হিসেবে কাজ করছেন। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক/সিনিয়র সচিবকে শেরপা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Views