ঢাকায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা

ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কালো পতাকা মিছিলে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। হয়েছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। আটক হয়েছে বেশ কয়েকজন। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার মৎস্য ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে হাইকোর্ট-মৎস্যভবন এলাকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল শুরু করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। মিছিলটি হাইকোর্ট মোড়ে গেলে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। পরে ব্যারিকেড ভেঙে মিছিলটি মৎস্য ভবন এলাকায় পৌঁছালে আবারও বাধা দেয় পুলিশ।

ফের ব্যারিকেড ভেঙে নেতাকর্মীরা যেতে চাইলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে বাম জোটের কর্মীরাও চড়াও হয়। এ ঘটনায় প্রায় ১০ জন নেতা-কর্র্মী আহত হন, যাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তাৎক্ষণিক পাঁচ-ছয়জন কর্মীকে আটক করে গাড়িতে নেয় পুলিশ। এ ঘটনায় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত প্রেসক্লাব-হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এতে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং তিন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানান, বাম জোটের নেতাকর্মীদের থামাতে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তারা সেই ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন জোটে নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ বামজোটের নেতাকর্মীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, আহত হয়ে ঢামেকের জরুরি বিভাগে ১৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৫৮ আসনে অভাবনীয় জয় পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে বামজোট। এরই অংশ হিসেবে গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টিসহ বাম জোটভুক্ত দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ডেকেছিল।

(বিশেষ প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-