‘ডেঙ্গু জ্বর’, সচেতনতা ও প্রতিকার

ডেঙ্গু জ্বর : মূল শব্দটি হচ্ছে ডেঙ্গি জ্বর, যা আমরা প্রচলিত কথার ছলে ডেঙ্গু জ্বর বলে থাকি। এই ডেঙ্গি/ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে মশা বাহিত ভাইরাস জ্বর যা এডিস নামক মশা ছড়িয়ে থাকে।

ডেঙ্গু মশা চেনার উপায় : ডেঙ্গু মশা সাধারণ মশা থেকে দেখতে একটু আলাদা, এদের শরীরে বিশেষ করে পায়ে সাদা (ডট) বা সাদা কালো ডোরাকাটা থাকে, যা দেখে সহজে ডেঙ্গু মশা চেনা যায়।

ডেঙ্গু মশা কোথায় জন্মায় : ডেঙ্গু মশা সাধারণত ময়লা স্থান বা ময়লা পানিতে বংশবিস্তার করে না। ডেঙ্গু মশা মূলত স্বচ্ছ/ পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে থাকে। যদি কোথাও যেমন এসির জমে থাকা পানি, ফ্রিজের নীচে ট্রেতে জমে থাকা পানিতে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ারের ভিতর জমে থাকা পানি, ফেলে রাখা ডাব এবং ডিমের খোসায় জমে থাকা পানি তিন দিন পর্যন্ত থাকলে সেখানে সেখানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা ডিম এবং বংশবিস্তার ঘটে থাকে।

ডেঙ্গু জ্বরের পরিচিতি বা স্বাভাবিক লক্ষণ সমূহ : * জ্বর 102-104 ডিগ্রী সেলসিয়াস. * গলা, হাত, মাথা ও গিঁটে ব্যাথা. * চোখের পিছনে ব্যাথা. * গায়ে রেশ ( হামের মতন )

ডেঙ্গু জ্বরের বর্তমান লক্ষণ সমূহ : * গাঁ মেজমেজে ভাব * হালকা জ্বর ( মাঝে মাঝে একদমই থাকেনা ) * পেট ব্যাথা, বদহজম, বমি. * ঠোঁট ও গালে লালচে ফোস্কা. * অস্থিরতা, খিঁচুনি. * দ্রুত প্রেসারে কমে যাওয়া. * হঠাৎ অচেতন হওয়া বা অচেতন ভাব।

কখন হাসপাতালে ভর্তি হবেন : নিম্নোক্ত যে কোনো একটি বিপদ সংকেত দেখা দিলে. * প্রচন্ড পেট ব্যাথা হলে. * ঘন ঘন বমি হলে বা বমি বন্ধ না হলে. * রক্ত বমি হলে / কালো পায়খানা হলে / মলের সাথে রক্ত গেলে * দাঁতের মাড়ি বা নাক হতে রক্তপাত হলে. * ছয় ঘন্টার বেশি পস্রাব না হলে. * প্রচন্ড শ্বাস কষ্ট হলে. * গর্ভবতী মা, নবজাতক শিশু, বয়স্ক রুগী, ডায়বেটিক রুগী, কিডনি ও লিভার রুগী হলে।

ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা সমূহ : ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের পরীক্ষা 1. NS1 এন্টিজেন. 2. IgG & IgM 3. CBC

কখন এবং কিভাবে বাড়িতে চিকিৎসা নিবেন : * কোনো বিপদ চিহ্ন না থাকলে. * মুখে পর্যাপ্ত তরল খাবার খেতে পারলে। * প্রতি ছয় ঘন্টায় অন্তত একবার পস্রাব হলে। এ সময় বাড়িতে অবস্থান করে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। পর্যাপ্ত পরিমানে লবন সমৃদ্ধ খাবার পানীয় যেমন খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ ইত্যাদি খেতে থাকুন। ডেঙ্গু জ্বরে প্যারাসিটামল ব্যতীত অন্য কোনো ব্যাথার ঔষধ সেবন করা যাবেনা। দৈনিক চার গ্রামের বেশি প্যারাসিটামল সেবন করা যাবেনা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় : * স্বল্প জলাবদ্ধতার জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে পানি জমতে না পারে. বিশেষ করে এসি, ফ্রিজ, টবের পানি, পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানি, ডাব বা ডিমের খোসায় জমে থাকা পানি. * দিনের বেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি সহ পরিবারের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, রাতের বেলার মতো দিনের বেলায়ও ঘুমালেও মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমাতে হবে. * কার্যকর এরোসল,স্প্রে, মেট ব্যবহার করে ঘরের ভিতর এবং গাড়ীর ভিতর মশামুক্ত রাখতে হবে। * হাতে পায়ে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য বিশেষ করে হাতে পাঁয়ে ওডোমস, পরনের কাপড়ে ফ্যাব্রিক রোল ডট, কোনো কিছু না পেলে নারিকেলের তেল লাগাতে পারেন। ফুল শার্ট-প্যান্ট, মোজা পরিধান করে রাখা যেতে পারে। গাড়ী ও ঘড়ের ভিতর এবং আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট স্প্রে, ব্লিচিং পাউডার পানিতে মিশিয়ে অথবা কেরোসিন স্প্রে করা যেতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস বহনকারী এডিস মশা সাধারণত আলোতে কামরায় তাই দিনের বেলায় বিশেষ করে সকাল সন্ধ্যা সতর্ক থাকুন। সুস্থ থাকুন – নিরাপদ থাকুন – ভালো থাকুন।

কার্টেসি ডাঃ নাহিদ আল নোমান।

বিডিএস, পিএইচডি (জাপান), পি জি টি (জাপান) ফেলো ইন্টা: কলেজ অফ ডেন্টিস্ট (আমেরিকা।

সহকারী অধ্যাপক সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ – ঢাকা বিএমডিসি রেজি: 3263।

চ্যাম্বার ডেন্টাল মেডিক (ঘাটাইল) – শুক্রবার সারাদিন ডেন্টাল মেডিক (ঢাকা) – শনি থেকে বুধ কসমিক ডেন্টাল (টাঙ্গাইল)- বৃহস্পিতি ও শুক্রবার সন্ধ্যা

(৬ আগস্ট/ ঘাটাইলডটকম)/-