ডেঙ্গু কেড়ে নিল ঘাটাইলের হবু ডাক্তারের প্রাণ

রুমানা আফরোজ (২৪) ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এবছর ফাইনাল এবং ভাইভা উভয়ই পরীক্ষাই শেষ করেছিল। রেজাল্টের অপেক্ষা ছিল সে। তারপরই একজন এমবিবিএস ডাক্তার। বাবা মায়ের সাথেই মিরপুর-১ টোলারবাগ বাসায় থাকত। বাবা রফিকুল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের গালা গ্রামের বাসিন্দা এবং মা গৃহিনী। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিল রুমানা। পাঁচ দিন ডেঙ্গু জ্বরের সাথে লড়ে অবশেষে শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে হার মানে সে। অকালেই ঝরে গেল একটি মেধাবী মুখ।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা আর বার বার চোখ মুছছেন বাবা। তার বাবার অভিযোগ তারা যে এলাকায় বাস করেন সেখানে সিটি কর্পোরেশন থেকে মশা নিধনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত রবিবার শরীর গরম অনুভব করে রুমানা। মাকে সে বলে আমার মনে হয় জ্বর। মা রাবেয়া খাতুন জ্বরের সাধারণ চিকিৎসা বাসায় থাকা প্যারাসিটামল খেতে দিলেন মেয়েকে। তাতে জ্বর না কমে বেড়ে যায়। পরে ভর্তি করা হয় তারই অধ্যয়ন করা ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। অবস্থার কোনো উন্নতি নেই।

তার বাবা জানান, পঞ্চম দিন শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে হঠাৎ করেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা তাকে নিবিড় পরিচর্য়া কেন্দ্র (আইসিইউতে) ভর্তি করান। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর এক ঘন্টা আগে কর্তব্যরত ডাক্তাররা স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে তা আর সম্ভব হয়নি।

রুমানার বাবা বলেন, মেয়ের মৃত্যুর সাথে যেন আমার স্বপ্ন ও পরিবারের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে ঠিক মতো মশা নিধক ঔষধ প্রয়োগ করলে আজ আমার মেয়েকে এভাবে হারাতে হতো না।

রুমানার লাশ গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গালা গ্রামে নিয়ে আসলে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। পরে আজ শনিবার সকাল ১০ টার দিকে তার লাশ জানাজা শেষে গালা জামে মসজিদ গোরস্থানে দাফন করা।

(মাসুম মিয়া, ঘাটাইলডটকম)/-