ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ সপ্তাহে মৃত ৪ নারীর দাফন টাঙ্গাইলে!

টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আজ শনিবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত চারজনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে যারা সবাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতদের তালিকায় হবু নারী এমবিবিএস ডাক্তার, পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রী, পুলিশের নারী এসআই ও নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির নারী ডিজাইনার রয়েছেন। তাদের টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল, টাঙ্গাইল সদর, ভুঞাপুর ও ধনবাড়ী উপজেলায় দাফন করা হয়। ১২ই জুলাই থেকে শুরু করে পহেলা আগস্ট পর্যন্ত সময়ের ৩ সপ্তাহে তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের সবাই নারী।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল

রুমানা আফরোজ (২৪) ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এবছর এমবিবিএস পরীক্ষার ফাইনাল এবং ভাইভা উভয়ই শেষ করেছিলেন। বাবা মায়ের সাথেই মিরপুর-১ টোলারবাগ বাসায় থাকতেন তিনি। বাবা রফিকুল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের গালা গ্রামের বাসিন্দা এবং মা গৃহিনী। মা-বাবার একমাত্র সন্তান রুমানা। পাঁচ দিন ডেঙ্গু জ্বরের সাথে লড়ে অবশেষে ১২ জুলাই (শুক্রবার) বিকেলে মারা যান তিনি। ঘাটাইলে জামুরিয়া ইউনিয়নের গালা গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

টাঙ্গাইলের সদর

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে পুলিশ কনস্টেবল মো. দুলাল হোসেনের স্ত্রী রুপা আক্তার জনি খান (২৭) নামে এক গৃহবধূ ৩০ জুলাই (মঙ্গলবার) ঢাকার শ্যামলী ট্রমা সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হসপিটালে মারা যান। জনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তরটারুনিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের খানের মেয়ে। রুপা তার স্বামীর সঙ্গে রাজারবাগে থাকতেন। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে রাজারবাগের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এর পর ২৭ জুলাই তাকে ইডেন মাল্টিকেয়ার হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুইদিন আইসিইউতে রাখার পর চিকিৎসকরা তার অবস্থা ভাল নয় জানালে রুপাকে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা ট্রমা সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান তিনি।

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে চির নিদ্রায় শায়িত হন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নিহত পুলিশের এসআই কোহিনুর। ৩১ জুলাই (বুধবার) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা রাজারবাগ পুলিশলাইনসে প্রথম জানাজা এবং জোহরের নামাজের পর তার গ্রামের বাড়ি ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে অর্জুনা পূর্বপাড়া পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এসআই কোহিনুরের সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাত সোয়া ১টার দিকে কোহিনুরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী

ঢাকার বিএসএসইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর অন্তঃসত্ত্বা নারী মালিহা মাহফুজ অন্যা (২৭) ১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) মারা যান। ধনবাড়ী পৌরসভার বাসিন্দা ছলিম মাষ্টারের নাতি মালিহা মাহফুজ বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ও টেকনোলজি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে মেঘনা নিট কম্পোজিট নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডিজাইনার হিসেবে চাকরি করতেন। উত্তরায় তিনি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। ধনবাড়ী পৌর শহরের নিজ বাড়ীর কবরস্থানে শুক্রবার (২ আগস্ট) জুমার নামাযের পর তাকে দাফন করা হয়।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সর্বশেষ

এদিকে টাঙ্গাইলে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া এর বাইরেও অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতাগুলোতে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৩৬ জন, মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গত এক সপ্তাহে (৩ আগস্ট) ১৫ জন ডেঙ্গু রোগীকে সনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের কোনো ব্যবস্থা ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না থাকায় সনাক্তকারী সকল রোগীকেই উপজেলা সদরের দুটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে চার জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই নিজস্ব চেষ্টায় মমনসিংহ ও ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা নিচ্ছেন।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-