টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ’র জন্মকথা

জুন ৩০, ২০২০

শুরুতেই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহের স্থাপনাকাল সম্পর্কীত একটি ভুল তথ্য নিয়ে আলোকপাত করছি। ঈদগাহের পূর্ব – উত্তর কোনে টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত প্রবেশদ্বারে স্থাপনাকাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯০৫ খৃঃ। তথ্যটি ভুল। ঈদগাহ প্রতিষ্ঠার সাথে সালটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মূলত ১৯০৫ খ্রীস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের বড়লাট লর্ড কার্জনের আদেশে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়। ১৯১১ সালে প্রচন্ড গণআন্দোলনের মুখে বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়। এই আনন্দে একই বছর অর্থাৎ ১৯১১ সালে টাঙ্গাইল পুলিশ প্যারেড ময়দানে (বর্তমান শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান) এক করোনেশন- অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই ১৯১১ সালে বর্তমান ঈদগাহ, স্টেডিয়াম, আউটার স্টেডিয়াম, মারকাজ মসজিদ, পার্ক বাজার (চাঁদ বাজার), ভাসানী হল, জিমনেসিয়াম, সরকারি মডেল প্রাইমারি স্কুল সহ এলাকা নিয়ে স্হাপন করা হয় করোনেশন পার্ক এবং করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব।

এর দুই দশক পর অর্থাৎ ১৯৩১ খৃঃ টাঙ্গাইল এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয়। এ সময় দুর্ভিক্ষপীড়িত টাঙ্গাইলবাসীর জন্য মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আসাম হতে চাউল বোঝাই নৌকা নিয়ে হাজির হন টাঙ্গাইলে। মাওলানা ভাসানীর প্রথম টাঙ্গাইল আগমন। তিনি টাঙ্গাইল মিউনিসিপ্যাল এলাকার দুর্গত মানুষের খেদমতে প্রথমে এসে কাগমারির হযরত শাহ জামান ( রঃ) মাজারে আশ্রয় গ্রহণ করে রিলিফ বিতরণ শুরু করেন।

পরের বছর অর্থাৎ ১৯৩২ খৃঃ বর্তমান ঈদগাহের স্থানে মাওলানা ভাসানীর ইমামতিতে প্রথম ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা ভাসানী ইমামতি করবেন এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহর ছাড়িয়ে গ্রাম গ্রামান্তর হতে বাঁধভাঙা স্রোতের মতো মুসুল্লি এলেন ময়দানে। যদিও তখনও ঈদগাহ ময়দান ঈদগাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ঈদগাহে নিয়মিত ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এরও অনেক পরে ১৯৫৭ খৃঃ। এ সময় প্রথম ইমামতি করেন হেকিম হবিবর রহমান।

ঈদগাহ হিসেবে ১৯৬২ খৃঃ ময়দান এস এ রেকর্ডভূক্ত হয়। রেকর্ডভূক্ত হওয়ার পর ঈদগাহে নামাজ আদায় সহ সার্বিক উন্নয়ন এর লক্ষ্যে হেকিম হবিবর রহমানকে সভাপতি এবং আব্দুল জলিল খানকে সেক্রেটারি করে এ বছরই অর্থাৎ ১৯৬২ খৃঃ ”ঈদগাহ উন্নয়ন কমিটি” গঠন করা হয়।

১৯৬৪ খৃঃ এডভোকেট সৈয়দ আব্দুল্লাহেল ওয়াছেক সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়ে ২০১১ সাল অবধি দায়িত্ব পালন করেন। ২০ শতকের আশির দশক থেকে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং পৌরসভার চেয়ারম্যান ( বর্তমানে মেয়র) সভাপতি হিসেবে পূণর্গঠনের মধ্যে দিয়ে ঈদগাহ কমিটি অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এবং প্রতি ঈদের সময় মাঠ প্রস্তুত, সাজসজ্জা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সহ যাবতীয় দায়িত্ব পৌরসভা পালন করছে।

(ইসমাইল হোসেন সেলিম, ঘাটাইল ডট কম)/-

ফেসবুক (ঘাটাইলডটকম)

বিভাগসমূহ

ঘাটাইলডটকম আর্কাইভ

পঞ্জিকা

July 2020
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031