টাঙ্গাইলে ৩ নদীর পানি বিপদসীমার উপরে

টাঙ্গাইলে প্রায় সব কয়টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা, ঝিনাই ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৭ সে.মি., ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭৬ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি ৪৫ সে মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর ফলে নদী তীরবর্তী টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর এবং কালিহাতী উপজেলায় বেশ কিছু এলাকায় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে করে এই ৩ উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অপরদিকে নদী ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও ৪ হাজার ৩৪o হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পাবে।

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় এখন পর্যন্ত ভূঞাপুর, সদর এবং কালিহাতী উপজেলা পানি প্রবেশ করেছে। আর এতে করে ২১ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এই ৩ উপজেলায় ৭৫ বর্গ কিলোমিটার প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলায় যমুনার নর্দীর তীরবর্তী আরাই কিলোমিটার রাস্তার বাঁধ (নদীর কিনার) ভেঙে গেছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪o হেক্টর ফসলী জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ধান, বোনা আমন, আউশ, পাট এবং সবজি রয়েছ।

জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলায় সবচেযে বেশি মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি দিন দিন বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলসহ নতুন নতুন এলাকায় পানি উঠে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার পরিবার।

এছাড়া বন্যার আগে যমুনা নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শতাধিক পরিবার। উপজেলার পুরো গাবসারা ইউনিয়ন, গোবিন্দাসী, অজুর্না, নিকরাইল ইউনিয়নের আংশিক এলাকাগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়েছে মানুষজন। ঘরে পানি উঠায় অনেকের রান্না বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়াও পায়খানা ও টিউবওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানি, গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গোবিন্দাসী হতে ভালকুটিয়া পর্যন্ত সড়ক ভেঙে ও তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বেশ কিছু এলাকায় রাস্তা ভেঙে গেছে।

কষ্টাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়েছে। বাকিটুকুতে নিজ উদ্যোগে প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ভরে বস্তা ফেলানো হয়েছিল। কিন্তু বন্যার কারণে ফেলানো বস্তা নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেনকে, টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই, ধলেশ্বরীর, ফটিকজানি পানিতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা ঝিনাই ও ধলেশ্বরী নদীর বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাঙন রোধে আমরা কাজ করছি।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-