টাঙ্গাইলে শাহিদার আদালত পাড়ার বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা মোহর আলীকে

বিগত ২ জুন মোহর আলীকে শাহিদা নামক এক নারীকে দিয়ে তার আদালত পাড়ার বাসায় ডেকে নেয়া হয়। সেখানে আলাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন মিলে মুখ চেপে ধরে মোহর আলীকে হত্যা করে। এ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত আলাউদ্দিন (৩০) আদালতে জবানবন্দিতে এ কথা জানিয়েছে। গত বুধবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে আলাউদ্দিন এ জবানবন্দি দেন। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুমন কুমার কর্মকার তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

এলাকার একটি হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা এবং নারী ঘটিত বিষয়ে শত্রুতার জের ধরে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মোহর আলীকে হত্যা করা হয়। পরে তার মাথা ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। আর শরীরের বাকি অংশ ব্রিফকেসে ভরে মোহর আলীর বাড়ির পাশ্ববর্তী এলাকা কাজীপুরে ফেলে রাখা হয়।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে আলাউদ্দিনকে শহরের বেড়াবুচনা এলাকায় তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলাউদ্দিন ওই এলাকার আরব আলী বেপারীর ছেলে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মোহর আলী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, এলাকার একটি হত্যাকাণ্ডের সাথে মোহর আলীর সম্পৃক্ততা ছিল। এজন্য কিছু লোকের সাথে তার শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও মোহর আলী বেশ কয়েকজন নারীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ জন্য কিছু লোক তার উপর ক্ষিপ্ত ছিল। দুই পক্ষ মিলে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর বিগত ২ জুন মোহর আলীকে শাহিদা নামক এক নারীকে দিয়ে তার আদালত পাড়ার বাসায় ডেকে নেয়া হয়। সেখানে আলাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন মিলে মুখ চেপে ধরে মোহর আলীকে হত্যা করেন। পরে তার লাশ টুকরা করে পা ও মাথা নদীতে এবং বাকি অংশ ব্রিফকেসে ভরে কাজীপুর মাদ্রাসার কাছে ফেলা হয়।

আলাউদ্দিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বেড়াবুচনা এলাকার জুলহাস বেপারীর ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে আলীমকে (৪০) বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। এছাড়া এ হত্যা মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া শাহিদা ও মুক্তা নামক দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শহরের বেড়াবুচনা এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে ব্যবসায়ী মোহর আলীর (৪০) গত ২ জুন নিখোঁজ হন। পরদিন তার মাথা ও পা বিহীন দেহ তাদের পার্শ্ববর্তী এলাকা কাজীপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর মোহরের ভাই ইশারত হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে সদর থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে এর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-