টাঙ্গাইলে মেয়রের বাধায় স্থবির উচ্ছেদ অভিযান

টাঙ্গাইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লোৗহজং নদীর দুই পাড়ে গড়ে তোলা অবৈধ বস্তিতে দীর্ঘদিন পর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলেও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের হস্তক্ষেপে অনেকটাই স্থবির হয়ে পরেছে এ কার্যক্রম।

বস্তিবাসী তাদের পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত এখান থেকে সরে যেতে চাইছে না। অন্যদিকে হাউজিং সোসাইটিসহ স্থানীয় লোকজন নদীর দুই পাড়ের বস্তি উচ্ছেদ করায় জেলা প্রশাসনকে স্বাগত জানিয়েছেন। ফলে বস্তি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

তবে অভিযানে কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পুনরায় নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

টাঙ্গাইল শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর দুই পাড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বস্তিটি বার বার ভেঙ্গে ফেলার কার্যক্রম হাতে নিলেও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কারণে এ বস্তি উচ্ছেদ করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। ফলে নদী দখল, দূষণের শিকার হয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের হাউজিং এস্টেট এলাকাটির সামনে এমন বস্তি থাকায় এর সৌন্দর্য পাচ্ছে না। চুরি ডাকাতিসহ নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে হাউজিং এস্টেটের মালিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০১৬ সালে সাবেক জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন নদী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে বস্তিটি উচ্ছেদ করতে চাইলেও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

পুনরায় আবার আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে হাউজিং সোসাইটি, গণপূর্ত বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে বস্তি উদ্ধারে আসে। সকালের দিকে কিছু অংশ ভেঙে ফেলার পরেই টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র বস্তিতে এসে বস্তি ভাঙতে নিষেধ করেন। এরপর থেকেই উচ্ছেদ অভিযান কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে।

তবে হাউজিংয়ের ভিতরে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বস্তিবাসীর দাবি, তাদের পুনর্বাসন করার পর বস্তি ভেঙে ফেলা হোক।

এদিকে স্থানীয় ও হাউজিং সোসাইটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এখানকার বস্তির উদ্ধার খুবই জরুরি। বস্তি উদ্ধার না হলে নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে না। প্রধানমন্ত্রীর নদী নিয়ে যে বিশাল পরিকল্পনা তা ব্যস্তবায়ন হবে না।

এদিকে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জানিয়েছেন, পরিকল্পনা ছাড়াই বস্তির উদ্ধার করতে আসা ঠিক হয়নি। এরা নিরীহ মানুষ, এদের পুনর্বাসন করে তারপর বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে। এ মুহূর্তে বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, লৌহজং নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা বস্তিসহ আশপাশের অবৈধ স্থাপনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

টাঙ্গাইল লৌহজং নদীর পাড়ে অবস্থিত বস্তিতে প্রায় ২৬০টি অবৈধ ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।

(সময়টিভি, ঘাটাইলডটকম)/-