টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী এডভোকেট হত্যার বিচার মিলেনি এক বছরেও

বীর মুক্তিযোদ্ধা টাংগাইলের কৃতি সন্তান এডভোকেট মোঃ হাসান আলী রেজা হত্যার বিচার হয়নি এক বছরেও। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন তার পরিবার সদস্যরা। ২০১৯ সালের ৮ জুলাই ৭৬ বছর বয়সী হাসান আলী রেজা টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়ার বাসা থেকে চা খাওয়ার জন্য বের হন। এরপর তিনি নিখোঁজ থাকার ৫ দিন পর ১৩ জুলাই সকালে শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার লৌহজং নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া হাসান আলী রেজাকে ১৪ই জুলাই তার গ্রামের বাড়ী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। বাদ যোহর বাইচাইল দাখিল মাদ্রাসা মাঠে তৃতীয় নামাযে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হন।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কৃতি সন্তান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ আইনজীবী মিঞা মোহাম্মদ হাসান আলী রেজার বিচার এক বছরেও না পেয়ে ঘাটাইল ডট কমকের নিকট হতাশা প্রকাশ করেছেন তার ছেলে লিটু হাসান।

তিনি ঘাটাইল ডট কমের নিকট আজ বুধবার (৮ জুলাই) বলেন, আজকের এই দিনে আব্বুর সাথে আমার জীবনের শেষ কথা হয়। তিনি বাসা থেকে বেড় হওয়ার সময়ই আমার সাথে তার কথা হয় এবং হাসিমুখে তিনি বেড়িয়ে যান। কখনো ভাবিনি আব্বুর সেই হাসিমুখখানা আর কখনো দেখতে পারবো না। দেখতে দেখতে একটি বছর হয়ে গেলো। আজ আব্বুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

তিনি বলেন, একটি বছর হয়ে গেলো এখনো আমরা জানতে পারলাম না কেন, কিভাবে, কি কারনে, কারা, কার মদদে আমার আব্বুর সাথে এই রকম করলো। এত নির্মম ও নির্দয়ভাবে তাকে হত্যা করলো। আমরা জানিনা এই হত্যার সঠিক বিচার আদৌ পাবো কিনা।

ঘাটাইল ডট কম সেইসময় তার পরিবার সূত্রে জানতে পারে, ওই এলাকার একটি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, হেলমেট ও রেইনকোট পরা এক যুবকের মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে যাচ্ছেন তিনি।

পরে হাসান আলী হত্যা মামলায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন কল্পনা রানী, তার স্বামী তপন কুমার সরকার ও পুত্র তন্ময় কুমার এবং অজ্ঞাত এক যুবক। দুই আসামী পিতা ও পুত্রকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে ১৮ জুলাই টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তখন জানান, রিমান্ডে আসামীদের নিকট থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে হাসান আলী রেজাকে হত্যায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে কল্পনা রানী ১৬৪ ধারায় টাঙ্গাইল আদালতে জবানবন্দী প্রদান করেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

পরবর্তীতে ওই বছরের ৮ নভেম্বর জানা যায়, হাসান আলী রেজা খুনের মামলায় গ্রেফতারকৃত কল্পনা রানী সরকার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে মারা গেছেন। টাঙ্গাইল কারাগারের সুপার মঞ্জুর হোসেন জানান, কল্পনা রানী অসুস্থ হওয়ার পর তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে কল্পনার লাশ তার স্বামীর ভাই স্বপন কুমার মণ্ডলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে একই মামলায় টাঙ্গাইল কারাগারে থাকা কল্পনার স্বামী তপন সরকার ও ছেলে তন্ময় সরকারকে তার লাশ দেখানো হয়।

হাসান আলী রেজার ছেলে লিটু হাসান ঘাটাইল ডট কমের মাধ্যমে সরকারের নিকট তার পিতা হত্যার রহস্য উন্মোচন ও বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রর এমন একজন সিনিয়র নাগরিক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যদি এভাবে হত্যা করা হয়, আর সেই হত্যার বিচার যদি এক বছরেও না পাওয়া যায় তাহলে সাধারণ নাগরিকরা চরমভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরবে এবং সরকার ও আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email