টাঙ্গাইলে মাভাবিপ্রবি’তে গড়ে উঠেছে উপাচার্যের অদম্য দূর্নীতি চক্র

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে অদম্য দূর্নীতি চক্র। এই চক্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের সকল শাখায় যা ইচ্ছে তাই কর্মকা- করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ও বিভিন্ন টেন্ডার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগই মূল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অফিস, অফিসার্স এসোসিয়েশন, ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি, ৩য় শ্রেণী কর্মচারী সমিতির একাধিক সূত্র উপাচার্য সিন্ডিকেটের দূর্নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর ৩০-৩৫ জনকে মাস্টার রোলে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৮০ জনের মতো কর্মচারী এড্হক ও মাস্টার রোলে কাজ করছে। এদের চাকরির স্থায়ী না করেই দূর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আরো ৩০-৩৫ জনকে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার অফিসের অত্যন্ত বিশ্বস্ত আরো একটি সূত্র জানায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশে না থাকা, শিক্ষামন্ত্রীর স্বামী অসুস্থ থাকার কারণে ব্যস্ত থাকা ও ঈদের লম্বা ছুটির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উপাচার্য নানা দূর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঠিক ছুটির আগের দিন ৩০-৩৫ জনকে মাস্টার রোলে নিয়োগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে ১০-১২ জন তৃতীয় শ্রেনী ও বাকিরা চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

সূত্রটি আরো জানায়, আগামি ২০ আগস্ট তাদের যোগদান করার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, উপাচার্য সিন্ডিকেটের প্রধান হলেন ডিরেক্টর অব একাউন্টস (ডিএ) তোফাজ্জাল হোসেন। আর উপচার্যের প্রধান সেনাপতি হলো রসায়ন বিভাগের সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম। এছাড়াও রয়েছেন রেজিস্টার তৌহিদুল ইসলাম, একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের দুজন একান্ত সচিব (পিএস)। যাদের মধ্যে কানিস রহমান অন্যতম, যিনি বাবুর্চি, দাড়োয়ান, কম্পিউটার অপারেটর সহ বিভিন্ন নিয়োগে সরাসরি আর্থিক লেনদেন করেছেন। এ ছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের আপন ভাইয়ের ছেলে, শ্বশুরকুলের আত্মীয়, ছেলের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় এবং আঞ্চলিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষক প্রতি ১০-১২ লাখ টাকা, কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে ৮-৯ লাখ টাকা এবং কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ছয়-সাত লাখ টাকার লেনদেন হয়। আর এই লেনদেনে হাত রয়েছে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের দুজন একান্ত সচিবের (পিএস) বিরুদ্ধে। এ ছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের আপন ভাইয়ের ছেলে, শ্বশুরকুলের আত্মীয়, ছেলের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় এবং আঞ্চলিকতা বিবেচনা করে সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারী বেশি নিয়োগ পেয়েছেন।

এ নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন মিয়া মুঠো ফোনে জানান, নিয়োগের বিষয়টি আমি শুনেছি। অন্তত ৩০-৩২ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই নিয়োগ সম্পূর্ণ দূর্নীতি ও আমাদের সাথে প্রতারণা করে করা হয়েছে। আমরা আমাদের মাস্টার রোলে নিয়োগ প্রাপ্তদের স্থায়ী ও পদোন্নতির জন্য মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান করে কর্মবিরতিতে যাই। তখন ভিসি স্যার আমাদের ৭ তারিখে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তার আগের দিন ৬ তারিখে বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করে ও বন্ধ হওয়ার পর এই নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ভিসি স্যার আমাদের বলে লোক দরকার নাই, লোক বেশি হয়ে গেছে। আর পদও নাই, পদ তৈরি হলে লোক নিয়োগ করা যাবে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে লোক নিয়োগ করতেছে। আজ ৭-৮ বছর যারা মাস্টার রোলে কাজ করে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছে, তাদের স্থায়ী না করে নতুন করে নিয়োগ দিচ্ছে কারণ আমাদের তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবে না। টাকার বিনিময়ে বাইরে থেকে নতুন লোক নিয়োগ দিচ্ছে। এছাড়াও রেজিস্টার অফিসের কর্মচারী শাহ আলম মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রীকে একটি চাকরি দেয়ার কথা বলেছিলাম। ভিসি স্যারও বলেছিলেন। কিন্তু আজও হয় নি।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইরেক্টর অব একাউন্টস তোফাজ্জল হোসেন মুঠো ফোনে প্রথমে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে জানান, নিয়োগের বিষয়টি আমার না, আপনি ভিসি/ উপাচার্য স্যারের সাথে কথা বলেন। আর আপনি অফিস খুললে আমার সাথে কথা বলবেন।

আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার তৌহিদুল ইসলাম মুঠো ফোনে কিছু বলতে রাজি না হলেও ডিএ’র (ডাইরেক্টর অব একাউন্টস তোফাজ্জল হোসেন) কথা বললে তার উদ্দেশ্যে বলেন, সব কাজ তো ডিএ সাহেবই করেন। এগুলো কি ডিএ সাহেবের কাজ? সব কাজ উনি শেষ করে আমার কাছে পাঠান নিয়ম রক্ষার জন্য। আপনি ভিসি স্যার / উপাচার্যের সাথে কথা বলেন।

এবিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আলাউদ্দিনের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি অনেকদিন পর চট্টগ্রাম আসছি। এখন কথা বলতে পারবো না বলে মুঠো ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

(অলক কুমার দাস, ঘাটাইলডটকম)/-