টাঙ্গাইলে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারে শিক্ষক আটক

টাঙ্গাইলে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোঃ হাফিজুল ইসলাম (৩০) টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থান মসজিদ দারুস সুন্নাহ এতিমখানা মাদ্রাসা শিক্ষক ও সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বেলটিয়া গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকালে তাকে মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ছেলেটির বাবা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২৬, তারিখ: ২০-০৮-২০১৯।

মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মো. শফিকুল ইসলাম তার ছেলেকে টাঙ্গাইল বেবীস্ট্যান্ড কেন্দ্রীয় গোরস্থান মসজিদ দারুস সুন্নাহ এতিমখানা মাদ্রাসার আবাসিকে রেখে লেখাপড়া করানোর জন্য ৮ মাস আগে ভর্তি করান এবং তারা স্বামী-স্ত্রী শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকেন। ছেলেটি মাদ্রাসার আবাসিকের ২য় তলার উত্তর পাশে কোনার ঘরে থাকত। রোজার মাসে ছেলেটিকে ২য় তলার কোনার সীট হইতে হুজুর তার সীটের কাছে নিয়ে আসে। তারপর গত ২৩ মে থেকে ছেলেটিকে বিভিন্ন সময় শিক্ষক মো. হাফিজুল ইসলাম যৌন কামনা মেটানোর জন্য মারপিটের ভয় দেখিয়ে প্রায় রাতেই পায়ুপথে জোর করে যৌন সঙ্গম করত।

এসময় ছেলেটি হুজুরকে বাঁধা দিলে বা চিৎকার করলে লেখাপড়ার নাম করে শারীরিকভাবে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। ছেলেটি মাঝেমধ্যেই সকাল থেকে মাদ্রাসায় থাকে কিন্তু রাত্রি হইলে হুজুরের ভয়ে পালিয়ে যায়। এভাবে কয়েকবার পালানোর পর হুজুর ছেলেটির মাকে বলে “আপনার ছেলেকে মাদ্রাসায় রাখিতে হইলে লিখিত দিয়া রাখিতে হইবে”। তখনও ছেলেটির পরিবার বুঝতে পারে নাই, কেন ছেলেটি বার বার মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসে। ছেলেটি চিৎকার চেঁচামেচি করার চেষ্টা করলে ঐ শিক্ষক ছেলেটিকে হুমকি দিয়া বলে যে, “যদি এই ব্যাপারে কাউকে এমনকি তোর বাবা-মাকে কিছু বলিস তাহলে তোকে খুন করিয়া ফেলিব” বলে ভয়ভীতি দেখাত। পরে সে হুজুরের মারধর সহ্য করতে না পেরে গ্রামের বাড়ী এলাসিন চলে যায়।

পরবর্তীতে তার বাবা-মা ছেলেকে বুঝিয়ে মাদ্রাসায় ফেরত দিয়া যায়। ঐ শিক্ষক পূণরায় ছেলেটির উপর অমানুষিক নির্যাতন চালালে গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবার সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাসায় চলে যায় এবং বাসায় গিয়ে তার মায়ের নিকট কান্নাকাটি করতে থাকে। একপর্যায়ে সে তার মাকে বলে যে, মাদ্রাসার মো. হাফিজুল ইসলাম হুজুর প্রায় রাতেই পায়ুপথে জোর পূর্বক যৌন সঙ্গম করে এবং খুন করার হুমকি দেয়। ছেলেটি হুজুরের ভয়ে ও লজ্জায় মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতে চাচ্ছে না ।

এই ঘটনায় মাদ্রাসার ছাত্রটি জানায়, তার সহপাঠী আশরাফ (১১), এসহাক (১২), ইলিয়াস (১১) মাঝে মধ্যেই তাকে টিককারী করত এবং বলত যে হুজুর তোর সাথে রাতে কি করেছে আমরা সব দেখছি।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি মাদ্রাসার সভাপতি এডভোকেট মো. জিন্নাত আলী জিন্নাহ বলেন, শিক্ষককে ভালো ছেলে দাবি করে বলেন, এটা তার বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত। সে খুব ভালো ছেলে। তিনি এও বলেন, সে যদি এই অন্যায় কাজ করে থাকে তাহলে তার শাস্তি দাবি করছি। আর যদি না করে তাহলে তার যেন কোন শাস্তি না হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুহা. মনির আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। তাকে আগামিকাল আদালতে হাজির করা হবে। মামলার নং-২৬, তারিখ: ২০-০৮-২০১৯। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।

(অলক কুমার, ঘাটাইলডটকম)/-