টাঙ্গাইলে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে কারখানা নির্মাণ, বোরো আবাদ অনিশ্চিত

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের ওমরপুর এলাকায় একটি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে কারখানা তৈরি করায় সহস্রাধিক একর জমির বোরো চাষে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওমরপুর গ্রামে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মিত একটি ব্রিজের মুখে স্থানীয় দেওয়ান বক্স ফ্যাক্টরি অবস্থিত। দেওয়ান বক্স ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ পূর্ব দিকে তিনটি বাংলা ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাট করায় ব্রিজের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। ওই ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি সরবরাহের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে ব্রিজের পশ্চিমাংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সস্রাধিক একর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেকেই ওই এলাকার জমিতে ধান রোপণ করেননি। যেসব কৃষকরা ওই জমিতে ধান রোপণ করেছেন তারা ফসল ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কায় হতাশায় ভূগছেন।

স্থানীয় কৃষক মো. খসরু মিয়া, মো. বাবলু মিয়া, মো. বাকী মিয়া, আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন, মো. মতি মিয়া, আ. মান্নান, বাক্কার আলী, মো. আলআমিন সহ অনেকেই জানান, ওমরপুর গ্রামের দেওয়ান পরিবার খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় তারা যাচ্ছেতাই করে থাকে। সহস্রাধিক একর জমির ধান বৃষ্টি হলেই তলিয়ে নষ্ট হবে জেনেও তারা ব্রিজের মুখটি বন্ধ করে ফ্যাক্টরি স্থাপন করেছে। এ বিষয়ে যারাই প্রতিবাদ করতে গিয়েছে তাদেরকে নানাভাবে লাঞ্ছিত ও হয়রানি করা হয়েছে।

তারা জানায়, এ বিষয়ে প্রতিকারের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনাত জাহানের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

কৃষকরা জানায়, ব্রিজের মুখ বন্ধ হওয়ার কারণে অনেকেই ধান রোপণ করেনি। একই কারণে আগামি মৌসুমে আমন ধান চাষেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ফ্যাক্টরি সংলগ্ন গ্রামীণ পাকা সড়কটির অর্ধাংশ দখল করে বর্জ্য রাখা হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। বক্স ফ্যাক্টরির বর্জ্য জমিতে ফেলার কারণে পরিবেশ দুষণ সহ জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

দেওয়ান বক্স ফ্যাক্টরির মো. আমিনুল দেওয়ান বলেন, ফ্যাক্টরি সংলগ্ন প্রায় জমিই আমাদের। আমাদের জমিতে আমরা মাটি ভরাট করেছি, এতে ব্রিজের মুখ বন্ধ হলে আমরা কী করব? আমরা তো সরকারি জায়গা বা অন্য কারো জায়গা ব্যবহার করছি না।

বক্স ফ্যাক্টরির মালিক মো. শাজাহান দেওয়ান মোবাইল ফোনে জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেই তারা বক্স ফ্যাক্টরি স্থাপন করেছেন। ফ্যাক্টরির জায়গা বাড়ানোর জন্য মাটি ভরাট করায় ব্রিজের মুখ বন্ধ হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসনের সবাই জানেন। তাছাড়া জমির ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাবেনা, পাশে খাল রয়েছে। ওই খাল দিয়ে পানি পশ্চিমে যমুনা নদীতে চলে যাবে।

কাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনাত জাহান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও জেলা প্রশাসককেও অবহিত করেছেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছেন। ইউএনও মহোদয় সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনও করেছেন, কিন্তু কোন প্রতিকার হয়নি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, তিনি মাত্র দু’মাস আগে সদর উপজেলায় যোগদান করেছেন। খোঁজ নিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনাত জাহান জানান, তিনি কয়েকটি এলাকা পরিদর্শনের সময় ওই এলাকায় গিয়ে থাকতে পারেন। তবে, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত নন। ওই এলাকার কৃষকরা তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত নন। ঘটনাটির বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি অফিসারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল.কম)/-