টাঙ্গাইলে বিড়ি ফ্যাক্টরীর বিরুদ্ধে মূসক ফাঁকির অভিযোগ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে বিড়ি ফ্যাক্টরী মালিকদের বিরুদ্ধে সরকারের কোটি কোটি টাকার মূসক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এতে করে একদিকে যেমন ফ্যাক্টরী মালিকরা রাতারাতি কালো টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন। অপরদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

জানা যায়, সদর উপজেলার সন্তোষ পাল পাড়ার হালিম বিড়ি ও হক বিড়ি, সাবালিয়ার মুকুট বিড়ি, জেলা সদর রোড বটতলার মন্টু বিড়ি ও মটর বিড়ি, ভূয়াপুর গোবিন্দাসীর যমুনা বিড়ি, কালিহাতীর জোকারচরে ফুল বিড়ি ও ৫নং বিড়ি, বানিয়াফৈরের মিরাজ, নিউ মিরাজ, ভুক্তার সাইফ, সিয়াম, মোহিনী, মিষ্টি বিড়ির ফ্যাক্টরী রয়েছে।

এসব ফ্যাক্টরীর মালিকরা বিড়ির প্যাকেটের গায়ে ব্যান্ডরোল বিহীন, জাল ও পুরাতন ব্যান্ডরোল লাগিয়ে বিড়ি বাজারজাত করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ।

প্রতি প্যাকেট বিড়ির গায়ে ৮ টাকা ১০ পয়সা ব্যান্ডরোল (মূসক) লাগানোর কথা থাকলেও ফ্যাক্টরীর মালিকরা তা অমান্য করে বেপরোয়াভাবে জাল ও নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করছে। বিড়ি ফ্যাক্টরীর লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী ফ্যাক্টরীতেই শ্রমিকদের বিড়ি তৈরী করার কথা থাকলেও বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিকরা বিভিন্ন কৌশলে শ্রমিকদের বিড়ি তৈরীর সকল উপকরণ বাড়ী বাড়ী পৌছে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

ওই সকল প্রস্তুতকৃত বিড়ির গায়ে জাল ও পুরাতন ব্যান্ডরোল লাগিয়ে রাত্রিতে পিকআপ যোগে বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের হাট বাজারে পৌছে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ওই সব ফ্যাক্টরীতে বিড়ি প্রস্তুত নিশ্চিত করতে না পারায় মালিকদের সুচতুরতার কারণে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

কাস্টমস কর্মকর্তারা এসব তথ্য জেনেও রহস্যজনক কারণে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ না করায় ফ্যাক্টরীর মালিকরা রাতারাতি কালো টাকার পাহাড় বনে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সুশীল মহল জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক জানান, টাঙ্গাইল জেলায় লাইসেন্সধারী প্রায় ২০/২২ টি বিড়ি ফ্যাক্টরী রয়েছে। সবচেয়ে ছোট ফ্যাক্টরী প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০/১৫ রোল বৈধ ব্যান্ডরোল উঠায়, যা প্রতি বিড়ি ফ্যাক্টরীর উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রার মাত্র ১০/১৫ ভাগ। সে অনুযায়ী ২০/২২ টি বিড়ি ফ্যাক্টরী থেকে বছরে সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরন করছে। যদি এই ২০/২২টি ফ্যাক্টরীর মালিকগণ যে পরিমান বিড়ি উৎপাদন করে ওই সকল বিড়ির প্যাকেটের গায়ে সঠিক ব্যান্ডরোল লাগালে সরকার শতকোটি টাকা রাজস্ব পেত বলে জানান।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জোবেদা খানমের অফিস ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-