টাঙ্গাইলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ভাসানীর দৌহিত্র সানু

তফসীল ঘোষণা না হলেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থীরা ব্যাপক জনসংযোগ শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দিন-রাত সমান তালে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করলেও এখনো জোড়ালোভাবে প্রচারণায় মাঠে নামেনি বিএনপির কোন প্রার্থী। তবে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নে আশা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন এটিই দেখার অপেক্ষায় পৌরবাসী।

তবে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহণ করে, তাহলে সেই নির্বাচনে গতবারের মতো এবারও বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাবেন মাহমুদুল হক সানু। এমনটি দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

আসন্ন টাঙ্গাইল পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি নেতা মাহমুদুল হক সানু আবারও মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তিনি বিগত ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন। মাহমুদুল হক সানু বর্তমানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং শহর বিএনপির সদস্য।

ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তার পিতার নাম মৃত শামছুল হক। শামছুল হক বিগত সময়ে পৌরসভার দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন।

ছানু মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র। তার বর্তমান ঠিকানা পূর্ব আদালত পাড়া এবং স্থায়ী ঠিকানা সন্তোষ বালুচড়া হাজী বাড়ীতে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি পাশ। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক এন্ড ব্রাদার্স, সন্তোষ বালুচড়া অলোয়া মৎস খামার এবং ইউসিবি এজেন্ট ব্যাংক সন্তোষ শাখার স্বত্বাধিকারী।

পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহমুদুল হক সানু বলেন, যানজট হলো টাঙ্গাইল পৌরসভার মধ্যে সর্বপ্রথম জনগণের একটি সমস্যা। এটি সব থেকে বিড়ম্বনা। ময়লা নিঃষ্কাশনের একটি বড় সমস্যা রয়েছে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার রাস্তা যেগুলো যেমন হওয়ার কথা ছিল তা না হয়ে মার্কেটে রূপান্তির করা। বজ্য ব্যবস্থাপনা খুবই দূরবস্থা। তাছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ টাঙ্গাইল পৌরসভায় দ্বারপ্রান্তে আসতে পারেনি।

পৌরসভা সেভাবে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে চলে গেছে, সাধারণ জনগণের জন্য টাঙ্গাইল পৌরসভা উন্মুক্ত না। পরিস্থিতিগত কারণে পৌরসভায় মানুষ আসতে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে না।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে বিএনপিতে আর কোন প্রার্থী নেই। আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। তবে দল যদি আমাকে মনোনয়ন না দেয় তাহলে আমি দলের পক্ষেই কাজ করবো। জেলা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে আমাকে বলা হয়েছে নির্বাচনে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য।

মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক সানু আরও বলেন, দলীয় দুর্বলতা এবং জনগণ সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার কারণে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হতে পারছে না। এছাড়া দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপি দল ক্ষমতায় থাকা সত্বেও নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি। বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সুযোগে নেই। সঠিকভাবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি শতভাগ বিজয়ী হবো।

তিনি আরো বলেন, মেয়র হতে পারলে আমার প্রথম কাজ হবে সাধারণ মানুষের জন্য পৌরসভা উন্মুক্ত থাকবে। আমি কোন গোষ্ঠী এবং চক্র ধারা নিয়ন্ত্রিত হবো না। টাঙ্গাইল পৌরসভা নিয়ে আমার একটি মাস্টার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার পিতা এর আগে দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার কিছু পরিকল্পনা ছিলো। সেই পরিকল্পনাটি আমি সংযুক্ত করে একটি সুন্দর শহর নাগরিকদের উপহার দেয়ার চেষ্টা করবো। টাঙ্গাইল শহরের অনেকগুলো খাল রয়েছে। সেগুলো পুনরুদ্ধারের জন্যও কাজ করবো।

পৌরবাসীর সাধারণ জনগণের জন্য আমার দরজা সব সময়ই উন্মুক্ত থাকবে। সাধারণ জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করবো। বর্তমান মেয়র জামিলুর রহমান মিরন আগের থেকে এখন অনেক জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আগে যে তার জনপ্রিয়তা ছিল, সেখান থেকে এখন অনেক দূরে সরে গেছেন।

তিনি বলেন, আমার পিতা বিগত সময়ে পৌরসভার দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময় থেকে জনগণের সাথে আমার ভালো সর্ম্পক রয়েছে। আমি খুবই সাধারণভাবে চলাফেরা করি। আমার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ দাঁড় করতে পারবে না। আমি সাধারণ মানুষের সাথে ভালোভাবে কথা বলতে পারি। এসব কারণে আমি নিজেকে অন্য প্রার্থীর তুলনায় সেরা মনে করি। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষে আমি এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। করোনার সময় ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার পরিবারকে সহযোগিতা করেছি।

বিএনপি নেতা মাহমুদুল হক সানু বিগত সময়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আহবায়ক কমিটির সদস্য, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর বিএনপি’র ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, সদর ছাত্রদলের সভাপতি, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বহুমুখী কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি, কাগমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাসানী ক্লাব, মওলানা ভাসানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি। মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব। টাঙ্গাইল ক্লাব, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার, টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদের আজীবন সদস্য। তিনি আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব অব টাঙ্গাইলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

(এম কবির/ নোমান আব্দুল্লাহ, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email