টাঙ্গাইলে কুমুদিনী কলেজে আবাসন–সংকট প্রকট

টাঙ্গাইলে নারীশিক্ষার প্রাচীন প্রতিষ্ঠান কুমুদিনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। যে সংখ্যক শিক্ষার্থী কলেজ হোস্টেলে অবস্থান করেন, তার দ্বিগুণের বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি ছাত্রাবাস কিংবা মেসে।

কলেজ সূত্র জানায়, ৯ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজে তিনটি ছাত্রাবাসে ৭৬০টি আসন রয়েছে। ওই জায়গায় গাদাগাদি করে থাকছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী। আর প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বেসরকারি ছাত্রাবাস ও মেসে।

দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা নারীশিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৪৩ সালে টাঙ্গাইল শহরে মায়ের নামে কুমুদিনী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। নারীদের জন্য ১৪ দশমিক ১৩ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত বৃহত্তর ময়মনসিংহের এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণি দিয়ে। পরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণি চালু হয়। উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে এখন তিন হাজার শিক্ষার্থী। আর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ছয় হাজার।

১৯৭৯ সালে কলেজটি সরকারি করা হয়। বর্তমানে কলেজে ১৬টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং ৮টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, বিপুলসংখ্যক ছাত্রী লেখাপড়া করলেও তাঁদের কলেজের ছাত্রাবাসে থাকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ৩টি ছাত্রাবাসে ৭৬০টি আসন রয়েছে। তবে সেখানে থাকছেন ১ হাজার ২০০ ছাত্রী। কলেজের ছাত্রাবাসে থাকার সুযোগ না পেয়ে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি ছাত্রাবাস, ছাত্রী মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন। এতে ছাত্রাবাসের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বাইরে থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয় শিক্ষার্থীদের।

কলেজের আশপাশে বিশ্বাস বেতকা, সাবালিয়া, আকুরটাকুরপাড়াসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি ছাত্রাবাস ও মেস গড়ে উঠেছে। সেখানে থাকতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। এত টাকা থাকা-খাওয়ার পেছনে খরচ হলে অন্য ব্যয় চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁদের।

কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আজাদ খান বলেন, ‘কলেজের ছাত্রাবাসে থাকতে না পেরে এই কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে বাইরে বিভিন্ন হোস্টেল-মেসে থাকতে হয়। তারা প্রায়ই আমাদের কাছে অভিযোগ জানায়। কিন্তু আমরা কোনো সমাধানই করতে পারি না।’

বাইরে ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করা সম্মান শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজ হোস্টেলে যেখানে মাত্র দেড় হাজার টাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে বাইরে থাকতে কয়েক গুণ বেশি খরচ হচ্ছে। বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হয় উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্রী লিজা আক্তার, স্নাতক শ্রেণির ছাত্রী সাবরিনা আক্তারকে। তাঁরা জানান, কলেজের বাইরে থাকতে খরচ যেমন বেশি, নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগতে হয়। তাই কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কয়েকটি ছাত্রাবাস নির্মাণ করা প্রয়োজন।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল মান্নান জানান, ছাত্রীদের আবাসিক সংকট নিরসনের জন্য নতুন আবাসন নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কলেজে একাধিক আবাসিক ভবন নির্মাণের পর্যাপ্ত জায়গাও রয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইলডটকম)/-