টাঙ্গাইলের সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী করটিয়া হাট সংলগ্ন সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ ওই এলাকার সম্পর্কে চাচাতো তিন ভাই প্রয়াত জীতেন চন্দ্র দাসের ছেলে জীবন চন্দ্র দাস, প্রয়াত আসুতোষ দাসের ছেলে আনন্দ চন্দ্র দাস ও অজিৎ চন্দ্র দাসের ছেলে অজয় চন্দ্র দাস সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবণ নির্মাণ করছে। কয়েক সপ্তাহ আগে স্থানীয় নায়েব নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিলেও রহস্যজনকভাবে আবার তারা ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। তবে ওই তিন ভাইয়ের দাবি- পৈত্রিক সম্পত্তিতে তারা নির্মাণ করছেন ভবন। যদিও ওই সম্পতির বৈধ কোনও কাগজ দেখাতে পারেননি তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, করটিয়া মৌজার করটিয়া হাট সংলগ্ন সরকারি খাস ১২ শতাংশ জায়গার উপর তিন ভাই পৃথক তিনটি বহুতল ভবণ নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয়রা প্রশাসনকে জানালেও প্রশাসন কোন প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

করটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুল আলম নদী বলেন, সরকারি জায়গায় বহুতল ভবন করায় প্রায় দেড় মাস আগে সদর উপজেলার ইউএনও নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ইউএনও এসে বলেছিলেন, সরকারি জায়গায় টিনশেড ভবন করার অনুমতি আছে। কিন্তু বহুতল ভবন করার অনুমতি নেই। কাজটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ ছিলো। আবার কোন কিছুর বিনিময়ে নির্মাণ কাজটি পুনরায় শুরু করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি যতোটুকু জানি তারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ করছেন। আমি তাদের ভবন নির্মাণের জন্য কোনো অনুমতি দেইনি। তাদের জমির পর্যাপ্ত কাগজপত্র রয়েছে।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান আনছারী বলেন, করটিয়া হাটের জমি হচ্ছে ৮৮২ দাগের। আর তারা ৮৬০ দাগের ১/১ খতিয়ানের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। তাদের বৈধ কাগজপত্র আছে কি-না আমি সঠিক বলতে পারবো না। তবে তারা দীর্ঘদিন যাবত ওই জমিতে বাস করছেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, ওই জায়গা বৈধ না অবৈধ আমি কিছু জানি না। বন্ধ থাকা কাজ চালু করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-