টাঙ্গাইলের পার্কবাজারে বেচাকেনা আছে, উন্নয়ন নেই

কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বেহাল টাঙ্গাইলের সর্ববৃহৎ পাইকারি সবজির বাজার। এটি এলাকায় পার্কবাজার নামে খ্যাত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বড় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না করায় এমন দশা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে কোনো রকম পরিকল্পনা ছাড়াই টাঙ্গাইলের একমাত্র শিশুপার্কে সাময়িকভাবে বাজারটি বসানো হয়। পরিকল্পনা ছিল টাঙ্গাইলের তৎকালীন প্রধান সবজির বাজার ছয়আনি পাকা হয়ে গেলে পার্কবাজার উঠে যাবে। কিন্তু ১৯৮৯ সালে এটি স্থায়ী বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিন একর জায়গাজুড়ে এখন এই বাজার। বাজারের ৬টি প্রবেশপথই সরু। নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বৃষ্টি হলে জল-কাদা একাকার হয়ে যায়। বাজারে নেই নির্দিষ্ট কোনো কসাইখানা। যত্রতত্র জবাই করা হয় গরু-খাসি।

পার্কবাজারটি মূলত সবজির বাজার হলেও সবজি বিক্রির জন্য নেই নির্দিষ্ট জায়গা। ক্রেতাদের চলাচলের রাস্তায় সবজি বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে বিঘ্ন ঘটছে জনচলাচলে। বাজারের বাইরে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানেও বাজার বসছে, খাজনাও আদায় করা হচ্ছে অবৈধভাবে। অথচ বাজার উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না একটিও টাকা।

জেলার ১২ উপজেলা ছাড়াও ঘাটাইল, ভুয়াপুর ক্যান্টনমেন্ট, মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ও পাহাড় কাঞ্চনপুর বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাজার ক্রেতারা সবজি কিনতে আসেন পার্কবাজারে। সম্প্রতি বাজারে নতুন করে ১২০টি আড়তের জন্য দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আড়তের কারণে রাস্তার মধ্যেই ট্রাক থেকে পণ্য নামানো হচ্ছে। এতে বাজার রোডে যানজট লেগে থাকে।

পার্ক বাজারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্যারাডাইসপাড়ার উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, নতুন করে ১২০ দোকান বরাদ্দ দেওয়ার ফলে এখন ট্রাক থেকে যত্রতত্র পণ্য নামানো হচ্ছে। এতে বাজারসংলগ্ন প্যারাডাইসপাড়া, র‌্যাব অফিস ও জেলা খাদ্য গুদামে যাতায়াত সমস্যা হচ্ছে।

পার্কবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, বাজার কমিটি এবং ইজারাদারের হাতে জিম্মি এই বাজারের দোকান মালিকরা। সরকার নির্ধারিত খাজনার চেয়ে বেশি টাকা খাজনা হিসেবে আদায় করা হচ্ছে। বাজারের বাইরে ঈদগাহ ময়দানেও বাজার বসিয়ে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অথচ বাজারের উন্নয়নে একটি টাকাও ব্যয় করা হচ্ছে না।

সবজি ক্রেতা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইল শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার এটি। কিন্তু নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। নারীদের জন্য নেই শৌচাগার। পুরুষদের জন্য যেটা আছে, সেটাও ব্যবহারের অযোগ্য।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহমুদা বেগম জেবু বলেন, পার্ক বাজার টাঙ্গাইলের ঐহিত্যবাহী বাজার। এই বাজারে বহুতল ভবন নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা, মালামাল লোড-আনলোড এরিয়া ও টয়লেটের সুযোগ-সুবিধাসহ একটি আধুনিক বাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পার্কবাজারের বেহাল দশা প্রসঙ্গে পার্কবাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

(আবু জুবায়ের উজ্জল, ঘাটাইলডটকম)/-