টাঙ্গাইলের কুমারপাড়ায় নববর্ষের ব্যস্ততা

আর মাত্র ক’দিন পরেই পহেলা বৈশাখ। বৈশাখ এলেই কুমাদের কয়েকগুণ কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায়। বৈশাখকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের কুমাররা মৃৎশিল্প তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলছে তাদের এ ব্যস্ততা। সারা বছর তেমন আয় না হলেও বৈশাখ মাসে তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।

বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নারী-পুরুষ সকলে মিলে তৈরি করছেন নানা রকমের জিনিসপত্র। হাড়ি-পাতিল, সানকি, কলসি, ফুলের টপ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, আম, জাম, কাঁঠাল, মাছসহ বিভিন্ন খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত এখন মৃৎশিল্পীরা। এসব জিনিস তৈরি শেষে আগুনে পুড়ানোর কাজও শেষ। আর ক’দিন পরে প্রয়োজন অনুযায়ী রঙ করা হবে।

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার এনায়েতপুর পালপাড়ায় ঘুরে দেখা যায়, বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে কুমাররা বিভিন্ন ধরনের মাটির জিনিস তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সাংসারিক জিনিসপত্রের পাশাপাশি তারা শিশুদের উপযোগী খেলনা হাতি, ঘোড়া, পুতুল, ব্যাংক, হাঁস, বাঘ, হরিণ, কুমির, আম, লিচু তৈরি করছেন।

কুমারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তাদের এলাকায় এখন প্রায় ৫০ পরিবার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ পেশায় থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে। সারা বছর মাটির জিনিসের তেমন চাহিদা থাকে না। কিন্তু বৈশাখে বিভিন্ন মেলায় এর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। সে চাহিদা মেটাতে তারা এক থেকে দেড় মাস আগেই প্রস্তুতি নিতে থাকে। বাড়ির গৃহবধূ, বৃদ্ধ, পুরুষ এমনকি শিশুরাও এ সময় ব্যস্ত হয়ে উঠে মাটির জিনিস তৈরিতে।

নীল মোহন পাল বলেন, বৈশাখী উপলক্ষে আমরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। আগের তুলনায় আমাদের এখন ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। দিনরাত সমান তালে কাজ করছি। সারাবছর আমাদের তেমন বিক্রি না হলেও বৈশাখ মাসে মাটির তৈরি জিনিস প্রচুর বিক্রি হয়। এতে আমরা লাভবান হই। আশা করছি এবারের বৈশাখে মাটির তৈরি জিনিস বিক্রি করে বেশ লাভবান হবো। সংসারের যাবতীয় খচর এর উপর নিভর করে।

প্রমীলা রানী পাল বলেন, আমাদের এ এলাকায় আগে আরো অনেক পরিবার ছিল যারা এ শিল্পের মাধ্যমে জীর্বিকা নির্বাহ করেছে। কিন্তু এখন আর কেউ এ ব্যবসায় থাকতে চায় না। এতে কষ্ট বেশি লাভ কম। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এ পেশা ধরে রেখেছে। সামনে বৈশাখ। তাই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। দিন-রাত কাজ করতে হচ্ছে। এ মেলা আমাদের আয়ের বড় উৎস।

মৃৎশিল্পী দিপালী রানী পাল বলেন, বাবার বাড়িতে মাটি দিয়ে খেলনা বানিয়েছি। স্বামীর বাড়িতেও খেলনা তৈরির কাজ করছি। এ কাজ করতে আমার ভালোই লাগে। তবে বৈশাখ শেষ হলে আমাদের ব্যস্ততাও শেষ হয়ে যায়।

আলো রানী পাল বলেন, আমাদের পরিবারের সবাই এ কাজ করি। বৈশাখ শেষ হলে বিভিন্ন হাটে-বাজারে মাটির জিনিস বিক্রি করে থাকি। তবে এখন আর কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহারের জন্য মাটির জিনিস খুঁজে না। সবাই এখন এলুমিনিয়াম, প্লাস্টিক, সিসা ও স্টিলের জিনিস ব্যবহার করে। বৈশাখে মাটির জিনিস ব্যবহার করা হয়।

সুধীর পাল বলেন, আগে মাটির অনেক জিনিস ভালো দামে বাজারে বিক্রি করতে পারতাম। এখন আর তেমন একটা বিক্রি হয় না। বাপ-দাদার কাজ তাই করছি। অন্য কোনো কাজ জানি না বলে এ নিয়েই পড়ে আছি। আগে আমাদের এটেঁল মাটি আনতে টাকা লাগতো না। কিন্তু এখন এটেঁল মাটি আনতে টাকা লাগে।

(আব্দুল্লাহ আল নোমান, পরিবর্তন/ ঘাটাইল.কম)/-