টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য টি-পন্ডের ইতিহাস উৎঘাটন

টাঙ্গাইল পৌর শহরের সন্তোষ এলাকায় রয়েছে পুরাতন একটি পুকুর। ইংরেজী অক্ষর “টি” এ আকৃতির এ পুকুরটি নির্মানের রয়েছে এক ইতিহাস। কিন্তু সে ইতিহাসটি কেউ জানতোনা। সম্প্রতি টাঙ্গাইল সংগ্রহশালা নামে একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান উদ্ধার করেছে পুকুরটির ইতিহাস।

টাঙ্গাইল শহর থেকে পশ্চিম দিকে সন্তোষ এলাকায় ইংরেজী “টি” অক্ষরের আকৃতির পুরাতন একটি পুকুর রয়েছে। টাঙ্গাইল শহরের বেশকয়েকটি পুরাতন পুকুর থাকলেও একটি অক্ষরের আকৃতির এ পুকুর এই একটিই। এই পুকুর নির্মানের ইতিহাস খুঁজে বের করতে গবেষনা শুরু করে টাঙ্গাইলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন “টাঙ্গাইল সংগ্রহশালা। সম্প্রতি সংগঠনটি এলাকার প্রবীন নাগরিকদের দেয়া তথ্য ও টাঙ্গাইলের ইতিহাস ধর্মী বিভিন্ন বই থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিত্বে এ পুকুর নির্মানের ইতিহাস উৎঘাটন করেছে।

গবেষনায় জানা গেছে, ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে ছয়আনীর জমিদার শ্রীমতি জাহ্নবী চৌধুরানী একটি পাঠশালা ও দাতব্য চিকিৎসালয় নির্মানের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তখন এ অঞ্চলে ছিলনা কোন ইটভাটা। ইট তৈরীর জন্য তার নির্দেশে সন্তোষ এলাকার জমি থেকে মাটি উত্তোলন করা হয়। এখান থেকে উত্তোলিত মাটি দিয়েই নির্মান করা হয় পাঠশালা ও দাতব্য চিকিৎসালয়। যা বর্তমানে জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয় ও টিবি ক্লিনিক নামে পরিচিত।

মাটি উত্তোলনের কারনে সেখানে তৈরী হয় ইংরেজী অক্ষর “টি” আকৃতির বিশাল গর্তের। পরে জমিদার জাহ্নবীর নির্দেশে প্রজাদের পানীয় জলের ব্যবস্থা করার জন্য পুকুরে রুপান্তর করা হয়।

জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর মাওলানা ভাসানী নবগঠিত জেলা মজদুর ইউনিয়নের সদস্যদের নিয়ে সেখানে মাছ চাষের উপযোগী করেন। ১৯৮৩ খ্রীষ্টাব্দে সরকারী উদ্যোগে পুকুরটি সংস্কার করা হয় এবং টি পন্ড নামে নথিভুক্ত করা হয়।

পুকুরটির ইতিহাস উম্মোচিত হবার পর বিভিন্ন এলাকা হতে লোকজন আসছেন পুকুরটি দেখতে। পুকুরটির ইতিহাস জানতে পেরে তারও গর্বিত।

সম্প্রতি “টাঙ্গাইল সংগ্রহশালা” সংগঠনের উদ্যোগে পুকুরের ইতিহাস সম্বলিত নাম ফলক উম্মোচন করেন ঘাটাইলের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-৫ সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি বলেন, সরকারী উদ্যোগে পুকুরটি সংস্কার করে সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হবে। ব্যতিক্রমী এ পুকুটিকে সংস্কার ও সংরক্ষন করা গেলে রক্ষা পাবে একটি ইতিহাস, এমনটিই মনে করেন টাঙ্গাইলবাসী।

(আরমান কবীর সৈকত, ঘাটাইলডটকম)/-