টাঙ্গাইলের আদিবাসীরা করোনায় প্রণোদনা চায়

টাঙ্গাইলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ১০টি সংগঠন আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে করোনায় প্রণোদনা সহ ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আদিবাসী সংগঠন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, ইউসিজিএম, টিডব্লিউএ, এসিভিএফ, থাংআনী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, আবিসা আদিবাসী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, বাগাছাস, গাসু, জিএসএফ ও আচিক মিচিক সোসাইটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি উত্থাপন করে।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের আদিবাসীরা ভাল নেই। করোনাকালে তাদের ঘরে খাবার নেই, বাইরে কাজ নেই, শহরে চাকুরি নেই। এমনকি সরকার তথা অন্য কোন সংস্থার সহায়তাও পর্যাপ্ত নেই।

আদিবাসীদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে হাজার হাজার আদিবাসী নারী-পুরুষ কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে আছে। বিশেষ করে বিউটি পার্লার, পোষাক শিল্প, বিভিন্ন কোম্পানী সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি হারিয়ে অভাব-অনটনে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

তাদের দাবি, সরকার সহায়তার উদ্যোগ নিলেও আদিবাসীদের কাছে তা পৌঁচাচ্ছে না। তাই ১১ দফা দাবি মেনে নিয়ে আদিবাসীদের উন্নয়ন করা হোক।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি অজয় এ মৃ’র সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, আচিক মিচিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুলেখা ম্রং।

সম্মেলনে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, মধুপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, পীরগাছা থাংনা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিকেন মৃ, আইনজীবী এমএ করিম মিঞা, পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলার প্রতিনিধি গৌতম চন্দ্র চন্দসহ বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জাতীয় সংসদে শতকরা ৫ ভাগ আসন বরাদ্দ, আদিবাসীদের ভূমির অধিকার রক্ষায় ভূমি কমিশন গঠন, আইএলও কনভেশন নং ১০৭ এর আলোকে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন,

সরকারি চাকুরিতে শতকরা ৫ ভাগ কোটা বরাদ্দ বহাল, বন আইন ২০১৯ সংশোধন, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহে সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ইত্যাদি।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-