জাহালম কেলেঙ্কারির মূল হোতা আমিনুল আটক, ৭ দিনের রিমান্ডে

ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের ২৬ মামলার আসামি নির্দোষ জাহালমকে ফাঁসিয়ে দেয়ার অন্যতম হোতা মো. আমিনুল হক সরকারকে গ্রেফতার করেছে দুদকের একটি তদন্ত টিম। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড হেফাজতে এনেছে ওই টিম। তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বুহস্পতিবার (১ আগস্ট) চক্রের ওই সদস্যকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। দুদক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মো. আমিনুল হক সরকার সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনাকারীদের একজন।

২০১২ সালের ৩ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪১৯/৪২০/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারার মামলা হয়।

এ মামলা ছাড়াও তিনি দুদকের ৩৩টি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং জাহালম কেলেঙ্কারির মূলহোতা।

দুদকের মো. আমিনুল হক সরকার ওরফে মো. আমিনুল হক ওরফে হক সাব-এর বাবা মৃত শামসুল হক (বাচ্চু মাস্টার)। তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের কৃষ্ণপুর উত্তর পাড়ায়।

দুদক সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান তার রিমান্ড প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আমিনুল সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ সংক্রান্ত সংঘবদ্ধ জালিয়াত ও প্রতারক দলের অন্যতম হোতা। তিনি প্রতারণা ও জালিয়াতিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকের জাল-জালিয়াতি সংক্রান্ত একই ঘটনায় মতিঝিল থানার একটি মামলায় ২০১০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরে তিনি সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। আত্মসাৎকৃত ১৮ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে তিনি ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা তার অংশহিসেবে পেয়েছেন মর্মে স্বীকার করেন।

অনুসন্ধানকালে জানা যায়, ব্র্যাক ব্যাংক বেগম রোকেয়া সরণি শাখায় তার নামে পরিচালিত হিসাবে ৫২ লাখ ১৪ হাজার টাকা ও মিরপুর শাখায় তার নামে পরিচালিত হিসাবে ৩০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা স্থিতি রয়েছে।

তিনি সোনালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে ‘একুশ শতকের উন্নয়ন’ নামক এনজিও করে সেখানে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন বলে জানা যায়।’

অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকের মিরপুর শাখায় তার ১১টি হিসাব রয়েছে। যাতে ২০১০-২০১১ সালে তার প্রায় ৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের জাহালম নামে এক নিরীহ যুবক সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের হাতে গ্রেফতার হয়ে তিন বছর জেল খাটেন। পরে মিডিয়ায় এ নিয়ে খবর প্রকাশ হলে জাহালমকে মুক্তি দেয় আদালত। দুদক থেকেও ২৬ মামলায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে জামিনের ব্যবস্থা করে দুদক প্রসিকিউশন।

(যুগান্তর, ঘাটাইলডটকম)/-