জাতিগত উচ্ছেদ : বসনিয়া থেকে ভারতের আসাম

0Shares

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের দুটি খবর সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল বিংশ শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে। এর একটি ছিল সাবেক যুগোসাভিয়া থেকে বেরিয়ে যাওয়া ও স্বাধীন হওয়া বসনিয়া হারজেগোভিনায়, আর অপরটি আফ্রিকার রুয়ায়। বসনিয়ায় ‘বসনিকাস’-দের (ইসলাম ধর্মাবলম্বী) নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ আর গণহত্যার জন্য সার্বিয়ার সার্বদের (খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী) দায়ী করা হয়েছিল। পরে এদের কারও কারও বিচারও হয়েছিল। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সার্বরা বসনিয়ায় গণহত্যা চালায়, যাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ লাখ মানুষ। সেব্রেনিচকার গণহত্যার কথা আজও মানুষ স্মরণ করে। সেব্রেনিচকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মুসলমানদের সার্বীয় মিলিশিয়ারা হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল। ‘কসাই’ হিসেবে পরিচিত মিলোসেভিচ কিংবা রাদোভান কারাদজিকের নাম ওই সময় বিশে^র গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছিল।

প্রায় একই সময়ে আফ্রিকার রুয়ান্ডায় হুতু ও তুতসিদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব (দুই নৃগোষ্ঠী) এবং এক নৃগোষ্ঠী কর্তৃক অন্য নৃগোষ্ঠীর মানুষদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর সারা বিশ্বের মানুষদের আহত করেছিল। ১৯৯৪ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এসব হত্যাকা- সংঘটিত হয়। এতে জড়িয়ে গিয়েছিল পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র, রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডি। বলা হয় এই গণহত্যায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। মারা যাওয়া মানুষদের বেশিরভাগই ছিলেন তুতসি সম্প্রদায়ের। রুয়ান্ডাতে হুতু সম্প্রদায়ের লোকজনের সংখ্যা ছিল বেশি, শতকরা ৮৫ ভাগ। অথচ তুতসি সম্প্রদায়ের মানুষ সংখ্যালঘু হয়েও রাজনীতিতে প্রভাব খাটাতো। এরই প্রতিক্রিয়ায় ওই গণহত্যা সংঘটিত হয়। ওই গণহত্যার খবর তখন সারা বিশে^ আলোচিত হয়। বসনিয়ার মতো রুয়ান্ডার গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের অনেকেরই আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হয়েছে।

এর পর বিশ্ব এ ধরনের জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান প্রত্যক্ষ করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানে যোগ হয়েছে দুটি নাম মিয়ানমারের রোহিঙ্গা আর ভারতের আসামের এনআরসি থেকে বাদ পড়া মুসলমানরা। বলার অপেক্ষা রাখে না ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল জার্মানিতে, ১৯৩৩-১৯৪৫ সময়সীমায়। ওই সময় নাজি জার্মানি প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করেছিল। গ্যাস চেম্বারে তাদের মৃত্যু কিংবা আউসভিৎসে (Auschwitz, পোল্যান্ড) তাদের বন্দি জীবনের (ইহুদিদের) চিহ্ন এখনো আছে। ভ্রমণকারীরা এখানে নিত্য আসেন। ২০১৮ সালে আমিও গিয়েছিলাম আউসভিৎসে।

দক্ষিণ এশিয়ায় রোহিঙ্গারা জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়েছে। এখন এদের সঙ্গে যোগ হলো আসামের মুসলমানদের নাম। আসামে এনআরসি (নাগরিকপঞ্জি) করে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৯ লাখ মানুষকে। বলা হচ্ছে এরা অবৈধ ও বাংলাদেশি! বাদ পড়া নাগরিক তালিকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক লোকও রয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে এবং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে (্প্রায় এক হাজার আপিল ট্রাইব্যুনাল করা হচ্ছে) এর মাধ্যমে হিন্দুরা তাদের নাগরিকত্ব ফেরত পেতে পারেন। কেননা লোকসভায় ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (যা ১৯৫৫ সালের নাগরিক আইনের সংশোধনী, ও প্রতিস্থাপিত হবে) উত্থাপিত হয়েছে, তাতে হিন্দুসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিলেও, তাতে সুনির্দিষ্টভাবে ‘মুসলমান’দের বাদ রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত সংশোধনী বলে আসামের হিন্দুরা সেখানে নাগরিকত্ব পাবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির সভাপতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভা নির্বাচনের (২০১৯) আগে ও পরে একাধিকবার বলেছেন, হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। চূড়ান্ত বিচারে তাই মুসলমানরা বড় বিপদে পড়বেন।

ভারতে বিজেপি সরকার ভারতকে একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায়। ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীন হয়ে নরেন্দ্র মোদি যে ‘হিন্দুত্ববাদী’ নীতির সূচনা করেছেন, তারই ফল হচ্ছে তথাকথিত এই নাগরিকপঞ্জি। এই নাগরিকপঞ্জি ১৯৮৫ সালে ত্রিপক্ষীয় যে সমঝোতা হয়েছিল (কেন্দ্র, আসাম সরকার ও আসাম ছাত্র ফেডারেশন), তারও পরিপন্থী। ওই সমঝোতায় একটি ‘স্ট্যাটাস কো’ (Status quo)-এর কথা বলা হয়েছিল। সেখানকার কোনো সংবাদপত্রে নাগরিকপঞ্জির এই তালিকা প্রকাশকে জার্মানির নাজি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে (Countercurrent, ৩১ আগস্ট, ২০১৯)। এখানে বসনিয়ার কিংবা রুয়ান্ডার হত্যাকা-ের সঙ্গে আসামের এনআরসিকে হয়তো মেলানো যাবে না। কেননা আসামে এখন কোনো গণহত্যা চলছে না। কিন্তু জাতিগত যে দ্বন্দ্ব, এক জাতি কর্তৃক দুর্বল অপর একটি জাতিকে উচ্ছেদ, স্থানান্তর, এখানেই মিল খঁজে পাওয়া যায়।

আসামের এনআরসি আমাদের মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতন ও জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের চিত্র স্মরণ করিয়ে দেয়। অত্যন্ত কৌশলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর উগ্রপন্থি বৌদ্ধ সংগঠনগুলো মিয়ানমারকে একটি ‘বৌদ্ধ রাষ্ট্রে’ পরিণত করতে চায়। আর এ জন্য টার্গেট করা হয়েছে রাখাইনে কয়েক শতক ধরে বসবাসরত মুসলমানদের। সেখানকার জনগোষ্ঠীর ৮৭ দশমিক ৯ ভাগ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ৬ দশমিক ২ ভাগ। মুসলমানরা মাত্র ৪ দশমিক ২ ভাগ এবং তারা রাখাইনে বসবাস করে। অথচ আজ এরাই টার্গেট হলো। অত্যন্ত কৌশলে গত প্রায় ৪০ বছর ধরে তাদের নিজ বসতঘর থেকে উৎখাত করা হচ্ছে। ১৯৭৮ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এবার সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে এসে তা বড় ধরনের একটি রূপ পায়। ১৯৭৮ সালে আসা রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশকেই ফেরত নিতে বাধ্য হয়েছিল মিয়ানমার। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সংকট। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা কোনো আশার কথা বলে না।

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা কুতুপালং ক্যাম্পে যে শোডাউন করল, তা সংগঠিত করল কারা? পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সমাবেশের ব্যাপারে তারা অবগত ছিলেন না। অথচ স্যোশাল মিডিয়ায় রোহিঙ্গাদের একটি আবেনদপত্র ভাইরাল হয়েছে, সেখানে দেখা যায় সমাবেশের অনুমতিপত্র তারা গ্রহণ করেছিল। অভিযোগ আছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের স্থায়ী হতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে (উখিয়া নিউজ, ২৬ আগস্ট)। বিবিসি বাংলা আমাদের জানাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো রাতের আঁধারে নিয়ন্ত্রণ করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো (২৭ আগস্ট)। এখানে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যেতে পারে। একটি বড় ধরনের উদ্বেগের খবর আমরা গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। আর তা হচ্ছে একাধিক সন্ত্রাসী দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সন্ত্রাসী আল ইয়াকিন গ্রুপের নামও সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হয়েছে।

স্থানীয় বাঙালিরা ইতিমধ্যে সেখানে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে বাঙালিদের মৃত্যুর খবরও একাধিকবার সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। এই যে পরিস্থিতি, তা কোনো আশার কথা বলে না। বিশাল একটি বিদেশি জনগোষ্ঠী অবৈধভাবে বাংলাদেশে বসবাস করছে, এটা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে ভূমিকা পালন করার কথা, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পালন করছে না। সংগত কারণেই তাই প্রশ্ন উঠেছে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ কী? মাত্র ৩৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছিল। সব মিলিয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার তুলনায় এই সংখ্যা কিছুই না। কিন্তু তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি মিয়ানমার। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আশ্বাস না পেলে রোহিঙ্গারা যে যাবে না, এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা ও মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা, যারা নির্যাতন ও হত্যার জন্য দায়ী, তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার করা ছাড়াও কোনো গত্যন্তর নেই। কিন্তু সে ব্যাপারেও তেমন অগ্রগতি নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেখানকার ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, মিয়ানমার কিছু রোহিঙ্গাকে নিতে চায়। কিন্তু তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখতে চাইছে। উপরন্তু রোহিঙ্গারা নিজ বাসভূমে ফিরে যেতে পারবে, সে সম্ভাবনাও ক্ষীণ। তাদের নিয়ে রাখা হবে নির্ধারিত ক্যাম্পে। ক্যাম্প জীবনেই কাটাতে হবে বাকি জীবন। এ ধরনের বেশ কিছু ক্যাম্প চীন ও ভারতের অর্থায়নে তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়টি ব্যাপকমাত্রায় বিশ্বে প্রচার পেলেও, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়নি। এর বড় প্রমাণ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন গত ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সফরে যান। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, মিয়ানমারে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানো। গত মাসেই দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে ৩ দশমিক ৯৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে (The Irrawaddy, ২৬ আগস্ট)। চীনের কথাও উল্লেখ করা যায়। চীন অনেকটাই দুমুখো নীতি গ্রহণ করেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে চীন দ্বিপক্ষীয় আলোচনার (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) ওপর গুরুত্ব দিলেও মিয়ানমারে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদত চেন হাই গত ২২ আগস্ট সেনাপ্রধান মিন আউয়ং হ্লাইয়ং-এর সঙ্গে দেখা করে রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন ((The Irrawaddy, ২২ আগস্ট)। চীন রাখাইন স্টেটের পাশ ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে গ্যাস আহরণ করছে এবং সেই গ্যাস তারা নিয়ে যাচ্ছে ইউনান প্রদেশে। ইউনান প্রদেশের কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। অথচ তার জ্বালানি দরকার। তাই পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস ও তেল মিয়ানমারের একাধিক রাজ্যের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইউনান রাজ্যে। ২০১৪ সালের যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায় মিয়ানমার ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে চীন (৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন কিউবিক মিটার) ও থাইল্যান্ডে (৩ বিলিয়ন) সরবরাহ করেছে। ২০১৮ এর পরিসংখ্যান পেলে দেখা যাবে সরবরাহের পরিমাণ অনেক বেশি। বলাই বাহুল্য ইউনান প্রদেশের ‘জ্বালানি ক্ষুধা’ মেটাচ্ছে মিয়ানমারের গ্যাস। পরিসংখ্যান বলছে ১৯৮৮-২০১৮ সময়সীমায় চীন ২০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার মিয়ানমারে বিনিয়োগ করেছে। এর মাঝে ৫৭ ভাগ বিনিয়োগ হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে, তেল, গ্যাস ও খনি খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ১৮ ভাগ। চীন রাখাইন প্রদেশের কিয়াকফু-তে (Kyaukphyu) গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে। এতে চীনের বিনিয়োগের পরিমাই ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং মিয়ানমারে জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানে চীনের সরাসরি সমর্থন না থাকলেও, সেখানে পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।

এই জাতিগত উচ্ছেদ অভিযান এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু। এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়ে লাখ লাখ মানুষ এখন নিজ বাসভূম ছেড়ে ভিন্ন দেশে বসবাস করছেন। দশ লাখ লিবীয় অভিবাসী এখন জার্মানিতে বসবাস করেন। এদের অনেকেই জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়েছেন। আফ্রিকাতে জাতিগত দ্বন্দ্বের কারণে সেখানে ‘স্থানীয় যুদ্ধ’ একটি স্থায়ী রূপ পেয়েছে। এই জাতিগত দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে হাজার হাজার আফ্রিকান তরুণ এখন ইউরোপে অবর্ণনীয় জীবন কাটাচ্ছেন। বিশালসংখ্যক ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ইউরোপে আশ্রয়দান ইউরোপের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে বদলে দিয়েছে। সেখানে জন্ম হয়েছে উগ্র দক্ষিণপন্থি রাজনীতির। কোথাও কোথাও তারা ক্ষমতার অংশীদারও। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর নতুন আঙ্গিকে এখন জাতিগত বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছে। একুশ শতকের রাজনীতির জন্য এটা হবে একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

(লেখক: তারেক শামসুর রেহমান, অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক/ দেশ রূপান্তর, ঘাটাইলডটকম)/-