ছয় মাসে ক্রসফায়ারে হত্যা ১৬৭, সীমান্তে ভারত কর্তৃক হত্যা ২৪

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৬৭ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১২৪ জন ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ বা সংঘর্ষে’ মারা গেছেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মোট ১৪২টি ঘটনায় ১৩ জনের নির্যাতনের পর মৃত্যু, ৫ জনের গুলিতে মৃত্যু এবং হাজতে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এই প্রতিবেদনে দেশে গত ছয় মাসে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, সংখ্যালঘু ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়। একই প্রতিবেদনে সীমান্ত হত্যা, অপহরণ, রাজনৈতিক সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের ঘটনার পরিসংখ্যানও উঠে এসেছে।

এইচআরএসএস-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসেছে, বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ৫ জনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে কেবল একজন ফিরেছেন এবং দুজনকে আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি দুজনের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি।

একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা অমানবিক নির্যাতন ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২৪ টি। এসব ঘটনায় ৩১৮ জন আহত, ১ জন গুলিবিদ্ধ এবং ৪১ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয়, কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন নাগরিকের অধিকার রক্ষার চেয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত থাকতে দেখা গিয়েছে।

এছাড়া একই সময়ে ৫২৭ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০১ শিশু। শিশুর প্রতি সহিংস ঘটনায় ১৮ শিশু মারা গেছে এবং ৩৯ শিশু মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। সীমান্তে হত্যার শিকার ২৪ জন।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের পাশাপাশি গত ছয় মাসে নারী ও শিশুর প্রতি নানা ধরনের সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবেদনে ধর্ষণ, খুন, যৌন হয়রানি ও আত্মহত্যার ঘটনার সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫২৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০১ জনই শিশু, যাঁদের বয়স ১৬ বছরের নিচে। ৯৭ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর ১৯ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। শিশুর প্রতি সহিংস ঘটনায় ১৮ শিশু মারা গেছে এবং ৩৯ শিশু মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি থাকা স্বত্বেও বাংলাদেশে মানবাধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে মন্তব্য করে এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে যদিও রাষ্ট্রই সকল ধরনের মানবাধিকার সুরক্ষায় রক্ষক। কিন্তু বেশির ভাগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় রাষ্ট্রযন্ত্র মানুষের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

ছয় মাসে ৫১ সাংবাদিক আহত হয়েছেন, ৮ জনকে হুমকি দেওয়া, ১১ জন গ্রেপ্তার এবং ১১ জন হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় ৭১ জনকে গ্রেপ্তার ও ১০৩টি মামলা দাখিল করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাসে ৫১ সাংবাদিক আহত হয়েছেন, ৮ জনকে হুমকি দেওয়া, ১১ জন গ্রেপ্তার এবং ১১ জন হামলার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় ৭১ জনকে গ্রেপ্তার ও ১০৩টি মামলা দাখিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ছয় মাসে সীমান্তে ভারতীয়দের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৪ বাংলাদেশি, আহত হয়েছেন ৬ জন, ৮ জন গুলিবিদ্ধ এবং ১২ জন বাংলাদেশিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গ্রেপ্তার করেছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-