চাল সংরক্ষণে মধুপুর, ময়মনসিংহ ও আশুগঞ্জে হচ্ছে স্টিল রাইস সাইলো

আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের মধুপুর, ময়মনসিংহ  ও আশুগঞ্জে তিনটি স্টিল রাইস সাইলো নির্মাণ করছে সরকার। এসব সাইলো নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করবে ইতালির সঙ্গে জয়েন ভেনচারে তমা কন্সট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। দুই লাখ ছয় হাজার টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন সাইলো তিনটি নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ৯৬০ কোটি টাকা। সাইলো নির্মাণে অর্থায়ন করছে বিশ্ব ব্যাংক। মধুপুরে নির্মিত সাইলোর ধারণ ক্ষমতা হবে ৪৮ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন।

ঢাকার একটি হোটেলে আজ বুধবার (৪ এপ্রিল) খাদ্য অধিদপ্তর এবং তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানী লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিনে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সরকারি গোডাউন ও সাইলোতে খাদ্যশস্যের মোট ধারণ ক্ষমতা আছে প্রায় ২১ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর শেষে এ ধারণ ক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ২২ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি। খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করার জন্য আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার বাড়াতে হবে, আর সেই পরিকল্পনা নিয়েই সরকার অগ্রসর হচ্ছে।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহবুদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষে চুক্তি সাক্ষর করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গাজীউর রহমান এবং তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানী লিমিটেডের পক্ষে চুক্তি সাক্ষর করেন তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান ভূইয়া।

সাইলোর প্রতীকী ছবি

আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের আওতায় ৩টি প্যাকেজে ৮টি সাইলো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৬টি চালের এবং ২টি গমের সাইলো। প্যাকেজ ড-৩ এর আওতায় ময়মনসিংহ, মধুপুর ও আশুগঞ্জে ১টি করে মোট ৩টি সাইলো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ময়মনসিংহে নির্মিত সাইলোর ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন, মধুপুরে নির্মিত সাইলোর ধারণ ক্ষমতা ৪৮ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন এবং আশুগঞ্জে নির্মিত সাইলোর ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ৮ হাজার মেট্রিক টন। ৩ টি সাইলোর সর্বমোট ধারণ ক্ষমতা হবে ২ লাখ ৫ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন।

বন্যা, সাইক্লোন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য দীর্ঘ মেয়াদী কৌশলগত মজুদ সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় স্টিল সাইলো নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এই স্টিল সাইলোর অন্যতম সুবিধা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ৩ বছর পর্যন্ত খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া রাসায়নিক ও কীটনাশক ছাড়াই খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করায় পুষ্টিমান ও গুণগত মান বজায় থাকে।

(বাসস, ঘাটাইল.কম)/-