চলাচলের অনুপযোগী দেলদুয়ারের জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়ক

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়কে খানা-খন্দকে ভরপুর। এতে খুব কষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও হাজার হাজার পথচারীদের। সড়কটি খানা-খন্দক হওয়ায় দ্বিগুন সময়ে গন্তব্যে পৌছাতে হয় এলাকাবাসীর। এতে চরম দুর্ভোগও পোহাতে হয় পথচারীদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ এ সড়কে নিম্নমানের কাজ করায় খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও গত বন্যায় সড়কে পানি উঠায় দুই স্থানে ভেঙ্গে গিয়েছে। এতে ছোট খাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্থানীয়ারা। তবে সড়কটির বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি দেলদুয়ার উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগন।

স্থানীয়রা জানান, দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া থেকে কান্দাপাড়া, নান্দুরিয়া, গড়াসিন, গইজাবাড়ি হয়ে ছিলিমপুর পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। সড়কটির বেশির ভাগ অংশে খানাখন্দকে ভরপুর। গত বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়কটির দুইস্থানে ভেঙ্গে যায়। পরে স্থানীয়রা কিছু ইট বসিয়ে চলাচলের উপযোগি করলেও খানা খন্দকের কারণে খুব কষ্টে যাতায়াত করতে হয় পথচারীদের। খানাখন্দকের কারনে প্রচুর পরিমান ঝাঁকুনি লাগে যানবাহনে চলাচল করা যাত্রীদের। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় তাদের। অসুস্থ রোগিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময়ও কষ্টের শিকার হতে হয়। এছাড়াও গন্তব্যে পৌছাতে দ্বিগুন সময় লাগে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাঙ্গালিয়া-ছিলিমপুর সড়কের বেশিরভাগ অংশের উপরের পিচের কার্পেটিং উঠে গিয়েছে। এছাড়াও সড়কে খানাখন্দকে ভরপুর। সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমে রয়েছে। এতে ছোট খাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। এছাড়াও সড়কটির পাশে পিচের কার্পেটিং ও ইটের সলিং ভেঙ্গে পড়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সড়কটির উভয় পাশে বনজ গাছ লাগানোর দৃশ্য চোখে পড়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী আমির মিয়া বলেন, ‘সড়কটি দেড় বছর আগে কোন রকম সংস্কার হয়েছিলো। নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এই সড়ক দিয়ে আমাদের খুব কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়।’

অপরজন আব্দুল কালাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ হলেও স্থায়ী উন্নয়ন না হওয়ায় দেড় বছরের মাথায় সড়কটির খানাখন্দকে ভরে গেছে। এতে গ্রামের ছোট ছেলে মেয়েরা সড়কে চলাচলের সময় হোচট খেয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও গর্তে পড়ে মোটরসাইকেলের আরোহীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’

মোতালেব মিয়া বলেন, ‘সড়কটি নিম্নমানের কাজ হলেও কর্তৃপক্ষ বা তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সঠিকভাবে বুঝে নেয়নি। যে কারনে অল্প দিনে আবার খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে খুব কষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে।’

সিএনজি চালক মো. তোফাজ্জল বলেন, ‘প্রচুর ঝাকি লাগায় যাত্রীরা এই সড়ক দিয়ে যেতে চায় না। এছাড়াও গন্তব্যে পৌছাতে দ্বিগুন সময় লাগে। অন্য দিকে সড়কে গর্ত থাকায় কোন রোগিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার সময় রোগির খুব কষ্ট হয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার দাবি করছি।’

ট্রাক চালক মো. আজাদ বলেন, ‘এই সড়কে খালি ট্রাক নিতে তেমন বেগ পোহাতে হয় না। তবে লোড গাড়ি এই ভাঙ্গা সড়কে নিতে খুব বেগ পোহাতে হয়। এই সড়কে চলাচলের সময় চিন্তায় থাকি কখন বুঝি ট্রাকের চাকা গর্তে ডেবে গিয়ে আটকা পড়বে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বারেক মিয়া বলেন, ‘এই সড়কটি আনুমানিক দেড় দুই বছর আগে কোন রকম রিপেয়ারিং করা হয়েছিলো। এতে এক বছর পড়েই সড়কটিতে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও গত বন্যায় সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে ভেঙ্গে গিয়েছিলো।’

আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘সড়কটি কাজ নয় ছয় করায় দেড় বছরের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের আবার খানাখন্দকে ভরে গিয়েছে। মুল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নিয়ে অন্য ঠিকাদার কাজ করায় নি¤œমানের কাজ হয়েছিলো। সড়কটি সংস্কার ব্যয় ও কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজটি করেছিলো তা এলজিইডি অফিস থেকে বলতে পারবে। নতুনে সড়কটি পুনঃনির্মানের টেন্ডার হয়েছে। আশা করি ডিসেম্বর না হলেও আগামী জানুয়ারি মাস থেকে কাজটি শুরু করবে।’

দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন, সড়কটি খানাখন্দকে ভরপুর। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে ওই সড়কের কাজ হয়েছিলো। সে জন্য ওই সড়কের পূর্বের কোন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে জানতে পেরেছি ওই সড়কটির টেন্ডার হয়েছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু করা হবে।’

অফিসে গিয়ে দেলদুয়ার এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে ঢাকায় যাচ্ছি। ওই সড়কটি বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই, আপনি অফিসে উপসহকারি প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করেন।’

অফিসে উপসহকারি প্রকৌশলী তোরাপ আলীকে না পেয়ে মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘আমি অফিসের কাজে সাইডে আছি। আমার কাছে ওই সড়কের তেমন কোন তথ্য নেই। আপনি হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন।’
হিসাব রক্ষক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ওই সড়কের কাজ সর্বশেষ কত দিন আগে হয়েছে, বরাদ্দ কত ছিলো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে ছিলো তা সঠিক আমি বলতে পারবো না। কাগজ পত্র দেখে বলতে গেলেও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। আর ওই সময় টুকু আমার কাছে নেই। কারণ গোডাউনে অনেক কাগজ পত্র জমা আছে। সেখান থেকে খুঁজে বের করা খুব কষ্টকর।’

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-

Print Friendly, PDF & Email