ঘাড় ও কোমর ব্যথা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আলোচনা

ঘাড় ও কোমরের নিদারুণ যন্ত্রণায় ভোগেন অনেকেই। ঘাড় ও কোমর ব্যথা বিষয়ে আলোচনা হলো এসকেএফ নিবেদিত করোনাকালে অসুখ-বিসুখ অনুষ্ঠানের চতুর্থ পর্বে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিক অ্যান্ড স্পাইন সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. শাহ আলম। সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. শ্রাবণ্য তৌহিদা।

অনুষ্ঠানটি গত ২৮ আগস্ট প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফ-এর ফেসবুক পেজ থেকে একযোগে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জানা গেল ঘাড় ও কোমর ব্যথার নানান কারণ। বয়স ও জীবনপদ্ধতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে এ দু’টি বিষয়। ছোট্ট শিশু ভারী ব্যাগ নিয়ে ক্রমাগত হাঁটছে, উঠতি বয়সীরা টেবিল-চেয়ারে পড়ালেখা না করে বিছানা বা সোফাসেটকে পড়ালেখার স্থান হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

যখন-তখন যেকোনো শারীরিক ভঙ্গিতে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার আবহমান কাল ধরে ঘাড় ও কোমর বাঁকিয়ে এ দেশের নারীরা ঘরের বিভিন্ন কাজ করে আসছেন।

অনেক নারী ও পুরুষ ভুল ভঙ্গিতে চেয়ারে বসে কাজ করেন কিংবা কোনো ভারী জিনিস তোলেন। এমন নানান ভুল দেহভঙ্গির কারণে ঘাড় বা কোমরে ব্যথা হতে পারে।

শরীরে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে হাড়ের স্বাভাবিক ঘনত্ব কমে যায়, এর ফলেও ব্যথা হয়ে থাকে। তা ছাড়া বয়সজনিত কারণেও ব্যথা হতে পারে। আঘাত, জীবাণুর সংক্রমণ, টিউমারের (শরীরের কোনো স্থান থেকে ক্যানসার ছড়িয়েও হতে পারে) মতো সমস্যাও দায়ী হতে পারে কারও কারও ক্ষেত্রে।

অনুষ্ঠানটির পুরো ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

করোনাকালে ভুল দেহভঙ্গি এবং একই ভঙ্গিতে অনেকক্ষণ বসে থাকার কারণে ব্যথা হচ্ছে, আবার নিয়মিত শরীরচর্চা না করার কারণেও ব্যথা বাড়ছে। এ ছাড়া ঘরের বাইরে পারতপক্ষে না যাবার কারণে অর্থাৎ, রোদের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হচ্ছে।

যেকোনো পরিস্থিতিতেই পরিবারের সবার জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা উচিত। একটি শিশু জন্মের পর মায়ের দুধ থেকে ক্যালসিয়াম সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পেয়ে যায়। শিশুকে রোদে রাখতেও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। মানবশরীরে ভিটামিন ডি-র জন্য রোদ আবশ্যক।

ব্যথা হলে প্রাথমিকভাবে কী করা যেতে পারে, তা-ও জানা গেল। দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে হালকা গরম পানির সেঁক বেশ উপকারী, তবে হঠাৎ তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে ঠান্ডা প্রয়োগ করাই হতে পারে প্রাথমিক উপশমের উপায়। মৃদু ব্যথানাশক সেবন করা যেতে পারে। পাতলা বালিশে শোয়া উচিত। সামনে ঝুঁকে কাজ করা যাবে না। কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে ভারী জিনিস তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে, নিজের ওজন বেশি হয়ে থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

এ ছাড়া যেসব কারণে ব্যথা হতে পারে, সেগুলো যতটা সম্ভব প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করতে হবে। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে নানান উপায়ে।

জরুরি সমস্যার সমাধানে মহামারি পরিস্থিতিতেও সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে, প্রয়োজন হলেই সেখানে সেবা নেওয়া যাচ্ছে। বেসরকারি চিকিৎসাব্যবস্থাও অনেকাংশেই সেবা অব্যাহত রেখেছে। চাইলে সেখানেও যাওয়া যেতে পারে।

এদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ক্রমোন্নতির একটি অংশ শল্যচিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতির সূচনা। মেরুদণ্ডের শল্যচিকিৎসা করাতে যে দেশের বাইরে ছুটতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। মেরুদণ্ডের নানান ধরনের শল্যচিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নানান প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের শল্যচিকিৎসা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানভেদে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার পার্থক্যই কেবল হয়ে থাকে, চিকিৎসা হয় একই মানের। হাড়-সংক্রান্ত বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের পরে ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হয়। আবার অস্ত্রোপচার ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়।

সব ক্ষেত্রেই যেমন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না, তেমনি সব ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিরও প্রয়োজন হয় না বলেই জানা গেল। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপিস্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে ঘাড় ও কোমর ব্যথা ছাড়াও অন্যান্য ব্যথাজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে জানানো হয়।

(রাফিয়া আলম, ঘাটাইল ডট কম)/-