ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাদী চৌধুরী সর্বত্র আলোচনায়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ববিন হায়দার চৌধুরী সাদী। ঘাটাইল উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় চুরান্ত মনোনয়নের জন্য তিনজন প্রার্থীর যে তালিকা কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ, সেখানে সাদি চৌধুরীর নাম রয়েছে। গত পহেলা ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সভা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে কারান্তরিন আমানুর রহমান খান রানার পিতা আতাউর রহমান খান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে এক নতুন সমীকরণ ও নেতৃত্ব নিয়ে অবাধ আলোচনা এবং সরল প্রতিযোগিতা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নতুন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তৈরিতে সংসদ নির্বাচনের পরপরই আসন্ন উপজেলা নির্বাচন যেন দারুণ একটা মওকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ঘাটাইলে এখন ১৪টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পাহাড়িয়া এলাকার হওয়ায় জনশ্রুতি রয়েছে যে, এইসব ইউনিয়নের ভোট ব্যাংক থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। উদাহরণ হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামু এ অঞ্চল থেকে কয়েকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং সাদি চৌধুরীর চাচা প্রয়াত বুলবুল চৌধুরী ঘাটাইল উপজেলার প্রথম সফল চেয়ারম্যান। সে হিসেবে ধলাপাড়া ইউনিয়নের অধিবাসী থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাদী চৌধুরী অন্য সকলের থেকে বেশ এগিয়ে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ হবে চতুর্থ ধাপে আগামি ৩১ মার্চ রোববার (সম্ভাব্য)। এছাড়া এই উপজেলার নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ হবে ৩০ এপ্রিল এবং প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে ৮ মে। এরপর থেকেই সম্ভাব্য সকল প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নানাভাবে নিরলস জানান দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকার গ্রাম, গঞ্জ, বাজার, শহর, রাস্তাঘাট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম কর্মী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবাই আগাম শুভেচ্ছা বিনিময় ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ঘাটাইলের ঐতিহ্যবাহী ‘ধলাপাড়া চৌধুরী ম্যানর’ এর সুসন্তান ও তরুণ নেতা সাদী চৌধুরী। তার পিতা মরহুম বজলুল হায়দার চৌধুরী, মাতা মিসেস মুক্তা চৌধুরী।

ববিন হায়দার চৌধুরী সাদী ঘাটাইলডটকমকে জানান, তিনি বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় যশোর বোর্ডে দশম স্থান অধিকার করেন। এরপর বরিশাল ক্যাডেট কলেজ থেকেই ১৯৯৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় যশোর বোর্ডে অষ্টম স্থান অধিকার করেন। ১৯৯৬-১৯৯৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক অধ্যয়নরত অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং পরবর্তীতে বৃহত্তর ধলাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নয় বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৭ সালে জন্মগ্রহণ করা সাদী চৌধুরী ঘাটাইলের ধলাপাড়াতে অবস্থিত ‘ধলাপাড়া কলেজ’ ২০০৪ সালে নিজ ভূমিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ও এলাকার নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তিনি ২০০৮ সাল হতে ধলাপাড়া ছমির উদ্দিন (চৌধুরী) পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ‘সভাপতি’ হিসাবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সাদী চৌধুরী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত ডা: মতিয়ার রহমান এমপি এর সাথে আওয়ামী সকল গণআন্দোলনে ওতপ্রোতভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ধলাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন সহ দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মানিত সদস্য তিনি।

তরুণ নেতা সাদী চৌধুরীর পিতা মরহুম বজলুর হায়দার চৌধুরী টাঙ্গাইলের সরকারী কাগমারী কলেজের ছাত্রলীগের হয়ে দীর্ঘকাল ছাত্র সংসদের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। চাচা মরহুম মোস্তফা কামাল চৌধুরী (বুলবুল) ঘাটাইল উপজেলার প্রথম উপজেলা-চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পিতামহ মরহুম ডা: রইছ উদ্দিন চৌধুরী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। পিতামহর অপর বড় ভাই মরহুম আমির উদ্দিন চৌধুরী টাঙ্গাইল মিউনিসিপালিটির প্রথম মুসলিম চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল ‘করোনেশন ড্রামাট্রিক ক্লাবের’ প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পিতামহর অপর বড়ভাই মরহুম কবি রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী মুসলিম সনেটিয়ার ছিলেন।

তার মাতৃকূলের নানা মরহুম ড. মফিজ উদ্দিন আহমেদ একজন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্য ‘ভাষা সৈনিক’ ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ‘ভাইচ-চেন্সেলর’ এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাইস-চেন্সেলর’ হিসাবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন।

জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনগনের বিভিন্ন উন্নয়মূলক কর্মকান্ডের সাথে দীর্ঘ সময় যাবত জড়িত সাদী চৌধুরী নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একনিষ্ট সৈনিক হয়ে নির্বাচন পরিচালনায় অংশগ্রহন করেন।

ববিন হায়দার চৌধুরী সাদী ঘাটাইলডটকমকে বলেন, জনগনের ভোটে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে পারবো। ঘাটাইল উপজেলাকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলবো। মাদক, সন্ত্রাস, দূর্নীতিমুক্ত উপজেলা গড়াই আমার প্রধান লক্ষ্য নির্ধারিত হবে। আমি বিগত দিনে দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেছি। এখন দলের পাশাপাশি উপজেলার সকল মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতে চাই।

তিনি আরো বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আমার পক্ষে নানাভাবে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। আমি বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের পাশে থেকে সর্বদা কাজ করে যাবো। এছাড়া ঘাটাইলের পাহাড়িয়া অঞ্চলের ধলাপাড়া, সাগরদীঘি, রসুলপুর, দেওপাড়া, সংগ্রামপুর, সন্ধানপুর, লক্ষ্মীন্দর এই সাত ইউনিয়ন সহ উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতে আমার বিশেষ জনপ্রিয়তা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এই উপজেলাটি উপহার দিতে সক্ষম হবো।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-

820total visits,1visits today