ঘাটাইলে ৬০টি ইটভাটার ৫৫ ভাটাই অবৈধভাবে পরিচালিত!

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ৬০টি ইটভাটার মধ্যে ৫৫ ভাটাই অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভাটা আইনের সব নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে ইট। ভাটাগুলো এভাবে বছরের পর বছর অবৈধভাবে পরিচালিত হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সরেজমিন ঘাটাইলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি ভাটা রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বসতবাড়ি ও তিন ফসলি জমির ওপর। ধলাপাড়া সাথী ব্রিকস নামের ভাটায় গিয়ে দেখা গেছে, এর ১০০ গজ দক্ষিণে ধলাপাড়া কলেজ আর ৫০ গজ উত্তর পাশে ঘনবসতি লোকের বসতবাড়ি। নিয়ম অনুযায়ী পরিবেশের ছাড়পত্র পাওয়ার পর লাইসেন্স পাওয়ার কথা। অথচ তিনি এমন ভাগ্যবান যে পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকলেও লাইসেন্স পেয়েছেন ঠিকই। এ ভাটার মালিক ঘাটাইল ইট প্রস্তুতকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা। ভাটা ম্যানেজার বলেন, এটা নেতার ভাটা। তার সঙ্গে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। কাগজপত্র না থাকলেও কোনো সমস্যা হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন খরচের কথা বলে ওই নেতা প্রতি ভাটা মালিকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। ফলে ইট প্রস্তুতকারী আইনের সব বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে নিশ্চিন্তে পরিচালিত হচ্ছে ভাটাগুলো। তবে ফারুক হোসেন ধলার কাছে জানতে চাইলে তিনি অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

স্থানীয় প্রশাসনের খাতায় অবৈধ এ ভাটাগুলোর মধ্যে জামুরিয়া ইউনিয়নে রয়েছে ১০টি। এগুলো হল- পদ্যা, ডিজিটাল, নবযুগ, এসকে, এসআর, লিটন, এশিয়া, এমএসবি, আদর্শ ও মডার্ন। দিঘলকান্দি ইউনিয়নে ৪টি। এগুলো হল- কৃষক ব্রিকস, স্বদেশ, বলাকা, এইচএসবি। ধলাপাড়া ইউনিয়নের বিলজলঙ্গি মৌজায় রয়েছে- বংশাই, ভাই ভাই, টাইস, শেলী, সোনার বাংলা, রুপসা মেধার মৌজায় রুপসা, পদ্মা, উত্তর ধলাপাড়া মৌজার জনতা। রসুলপুর ইউনিয়নে রয়েছে ৮টি ভাটা। এগুলো হল- যমুনা, সাগর, সততা, মামনি, সুরমা, এসস্টারবি (সোনালী), রুপালি, সোহান। দেউলাবাড়ি ইউনিয়নে ৮টি। এগুলো হল- সচল ব্রিকস, রিফাত-১, রিফাত-২, এএসবি, আরএসএম, মিতালী, আরএসএম, এসআরএন, দিগড় ইউনিয়নে এসএস, আদর্শ ভাটা, সন্ধানপুর ইউনিয়নের ফরিদ ভাটা, লোকেরপাড়া ইউনিয়নের কনক, আনেহলা ইউনিয়নে সুজন, মিশাল, স্বর্ণা, সিয়াম আর লোকেরপাড়া ইউনিয়নের ছয়আনি বকশিয়া গ্রামের কনক ভাটা।

ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের কাছে বিষয়টির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমরা অপারেশনে আছি। ইতিমধ্যেই আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করেছি। পরিবেশ অধিদফতর চাইলে আরও অভিযান পরিচালনা করব।

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভাটাগুলোর কারণে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পরিবেশের ওপর। এতে দেখা দিয়েছে পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয়। ফলে কৃষি জমির উর্বরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়ের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির ধান, গাছপালা ও ফলদ গাছ।

এ নিয়ে কথা হয় দিগড় গ্রামের কৃষক আরশেদ আলীর (৭০) সঙ্গে। তিনি জানান, স্থানীয় আদর্শ ইটভাটার সঙ্গে আমার ৩৫ শতক জায়গা থেকে আমন ও বোরো মৌসুমে আগে আমি ৪৫ মণ ধান কাটতাম। এখন কামলার খরচ জোটে না। ইটভাটায় সব খেয়ে দিচ্ছে। ভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কিছু বলা যায় না। তারা কৃষকের ক্ষতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম ঘাটাইলডটকমকে বলেন, ওখানে অনেকগুলোর ছাড়পত্র নেই। যারা নিয়ম মানেনি তাদের ছাড়পত্র দিইনি। এদের বিরুদ্ধে অচিরেই জেলা প্রশাসন ও আমাদের মাধ্যমে যৌথভাবে অভিযান পরিচালিত হবে। গুটিকয়েকের ছাড়পত্র রয়েছে বলে জানান তিনি।

(খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইলডটকম)/-