ঘাটাইলে ৪৭ মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

মহামারী করোনায় সরকারী বিধি নিষেধের মধ্য দিয়ে আর কয়েক দিন বাদে শুরু হবে সনাতন ধর্মালম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী এবার আসছে গজে চড়ে, যাবে দোলায়।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ভাটা পড়তে যাচ্ছে দুর্গাপূজার উৎসবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব এবার ধর্মীয় রীতি পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। থাকবে না উৎসবের আমেজ এবং আয়োজন।

স্বাস্থ্যবিধি পালন এবং করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজা। পূজা উদযাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ৪৭টি মন্ডপে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। পৌরসভায় ৬টি বাকী ৪১টি ১৪টি ইউনিয়নে শুরু হবে দুর্গাপুজা।

আসন্ন পুজাকে সামনে রেখে চলছে প্রতিমা রংতুলি ও সাজসজ্জা এবং আনুসাঙ্গিক কাজ ।

বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব বিষ্ণু কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসছে ২২ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় পূজামণ্ডপে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় রীতিনীতি মানার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

পূজা উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মাইকের ব্যবহার বর্জন করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সাজসজ্জা সীমিত আকারে করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ অধির চন্দ্র সাহা জানান মহামারী করোনায় আমরা আমাদের সরকারী বিধি নিষেধ মান্য করে পুজা উদপান করতে হবে। সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

আসন্ন দুর্গা পূজার সার্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্টদের কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, পূজামণ্ডপে প্রবেশের সময় করোনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে। হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার, মাস্ক বাধ্যতামূলক করতে হবে।

পূজামণ্ডপের সংখ্যা যথাসম্ভব কমিয়ে সীমিত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দেশব্যাপী সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা মোকাবিলায় মোবাইল ডিউটিতে থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনও শোভাযাত্রা করা যাবে না।

এতে আরও বলা হয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতে হবে। জনসমাগম সীমিতকরণসহ অন্যান্য নির্দেশনাবলি মিডিয়ায় প্রচারের ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করবে।

করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। পূজামণ্ডপ ব্যবস্থাপনায় পূজা উদযাপন কমিটি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯-এর সেবা নিতে পারবেন পূজা উদযাপন কমিটি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত বলেন, সারাদেশে ২৬টি নির্দেশনা পাঠিয়েছি আমরা। এর পাশাপাশি আরও ৭ দফা নির্দেশনা আছে।

পূজা উদযাপনে স্বাস্থ্যবিধি

এবার দুর্গাপূজায় শোভাযাত্রা ও প্রসাদ বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। করোনার কারণে দুর্গাপূজায় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সম্প্রতি ১১টি নির্দেশনা দিয়ে গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জনস্বাস্থ্য-১ অধিশাখার উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমদ ওসমানী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গাইডলাইন মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গাইডলাইনে বলা হয়েছে, মন্দির প্রাঙ্গণে নারী-পুরুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পৃথক ও নির্দিষ্ট থাকতে হবে।

পূজামণ্ডপে আগত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট দূরত্ব (কমপক্ষে দুই হাত) বজায় রেখে লাইন করে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করবেন এবং প্রণাম শেষে বের হয়ে যাবেন। সম্ভব হলে পুরো পথ পরিক্রমা গোল চিহ্ন দিয়ে নির্দিষ্ট করতে হবে।

পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ভক্তের সংখ্যা অধিক হলে একাধিকবার পুষ্পাঞ্জলির ব্যবস্থা করতে হবে।

পূজামণ্ডপে আগত সবার মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। মাস্ক পরিধান ছাড়া কাউকে পূজামণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

মন্দিরের প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ পূজামণ্ডপে প্রবেশ করবেন না। হাঁচি ও কাশির সময় টিস্যু রুমাল বা কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকতে হবে।

ব্যবহৃত টিস্যু বর্জ্য ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ঢাকনাযুক্ত বিনের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং জরুরিভাবে তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা/ধুনচি নাচ এবং শোভাযাত্রা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ধর্মীয় উপাচার ছাড়া অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোকসজ্জা বর্জন করতে হবে। পূজামণ্ডপে একজন থেকে আরেকজনের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে বসার স্থানটি নির্দিষ্ট করে দিতে হবে যাতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিফলিত হয়।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, মহামারির কারণে আমাদের এবার অনেক কিছু মেনে চলতে হবে। সব ধর্মের মানুষেরই কিন্তু করোনার কারণে এমনটা করতে হয়েছে। আমরা রথযাত্রা করিনি, জন্মাষ্টমী খুব নিয়ন্ত্রিত উপায়ে আমরা পালন করেছি। মহালয়াতেও আমরা কাউকে নিমন্ত্রণ করিনি।

টিভিতে দেখানো হয়েছে , অনেকেই ঘরে বসে দেখেছে। এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের পূজা করতে হবে।  ভক্তরা যারা আসবে তাদের প্রত্যেকেরই মাস্ক পড়তে হবে বাধ্যতামূলকভাবে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে কিন্তু প্রবেশ করতে হবে।

এরকম অনেক নির্দেশনা আছে। আমাদের দুর্গোৎসবে সব ধর্মের মানুষ আসে। এবার আমরা দুর্গোৎসব বলছি না, আমরা দুর্গাপূজা বলছি। কোনও প্রকারের উৎসব হবে না।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-