ঘাটাইলে ৩ স্কুলছাত্রী ধর্ষণে আটক তিনজনকে আদালতে প্রেরণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বনের ভিতরে বেড়াতে যাওয়ায় নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী ও তার দুই ছেলে বন্ধুকে গাছের সাথে বেঁধে নবম শ্রেনীতে পড়ুয়া তিন ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষন মামলায় আটক তিন আসামীকে আজ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল আদালতে সোপর্দ করা করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। এরা হচ্ছে, উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের সাতকুয়া এলাকার ইফসুফ, বাবু এবং ঘাটাইল পৌর এলাকার উত্তরপাড়া গ্রামের সুজন।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের আদালতে সোপর্দ করেন।

ঘাটাইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ঘাটাইলডটকমকে জানান, রবিবার (২৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এসই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির চার ছাত্রী বিদ্যালয়ে এসে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী দুপুর দেড়টার দিকে তারা ঝড়কা এলাকায় যায়। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বন্ধু হৃদয় ও শাহীন। পরে তারা আশিক নামের এক ব্যক্তির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে সাতকুয়া এলাকায় সেনাবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জের উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘুরতে যায়। এ সময় পাঁচ-সাতজন ব্যক্তি তাদের ঘিরে ফেলে। সেসময় হৃদয় ও শাহীনকে মারধর করে তিনজনকে ধর্ষণ করে তারা। অপরকে ভাগ্নির মতো দেখা যায় বলে একজনকে ধর্ষণ করা থেকে বিরত থাকে ধর্ষকরা। রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর দুইটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত আটকে রেখে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা।

পরে ওই চার ছাত্রী সেখানে তাদের একজনের নানীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়। অভিভাবকরা থানা পুলিশকে জানালে তারা চার স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে এক ধর্ষিতার বাবা মোঃ আবুল কাশেম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করে ঘাটাইল থানা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীদের ডাক্তারী পরীক্ষা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) ঘাটাইলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে সন্ধানপুর ইউনিয়নের সাতকুয়া এলাকা থেকে ইফসুফ ও বাবু এবং সুমনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। যদি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি না হয় তাহলে রিমান্ড চাওয়া হবে। এ ঘটনায় আমাদের ৩টি টিম কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে অনেক কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এখনো আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সরকার পক্ষের আইনজীবী এস আকবর খান ঘাটাইলডটকমকে জানান, তিন কিশোরী ধর্ষন মামলার আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইলডটকম)/-