ঘাটাইলে সোনা গলাতে চিমনি ছাড়া এসিডের ব্যবহার

সোনা গলাতে পোড়ানো হয় নাইট্রিক এসিড। আর গয়নার সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয় সালফিউরিক এসিড। এই এসিড পোড়াতে চিমনি ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে, যা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সোনার অলংকার ব্যবসায়ীরা মানে না। এটা ২০০২ সালের এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘাটাইল পৌর এলাকাসহ পুরো উপজেলায় রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রায় শতাধিক সোনার দোকান। এসব দোকানের পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেই। দোকানগুলোতে সোনা পোড়ানোর কাজে অবাধে এসিড ব্যবহৃত হলেও দেখার কেউ নেই। যত্রতত্র এসিড দিয়ে সোনা গলানোর কারণে আশপাশের লোকজন স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

সোনার দোকানে এসিড ব্যবহারের নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, এসিড পোড়ানোর জন্য আলাদা কক্ষ ও চিমনি ব্যবহার করতে হবে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের প্রায় ৮০টি দোকানে তা দেখা যায়নি। এর ফলে উন্মুক্ত স্থানে নাইট্রিক এসিড পোড়ানোর কারণে তা জনসাধারণের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবাধে নাইট্রিক এসিড ও সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করায় বিষাক্ত ধোঁয়ায় সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান খান বলেন, ‘নাইট্রিক অ্যাসিডে নাইট্রোজেন-ডাই অক্সাইড আছে, যা মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সালফিউরিক এসিডেও প্রায় একই রকম ক্ষতি হয়। এর ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ছাড়াও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।’

ঘাটাইল পৌর স্বর্ণকার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপুল চন্দ এসিড পোড়ানোর ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘পৌর এলাকায় এসিড দিয়ে সোনা পোড়ানোর জন্য তিনটি কারখানা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত কারখানাতেই সোনা পোড়ায়। কারখানাগুলোতে লম্বা পাইপ দিয়ে ধোঁয়া বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. নুর নাহার বেগম বলেন, ‘নীতিমালা মেনেই স্বর্ণকারদের ব্যবসা করতে হবে। নীতিমালা ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ নম্বর ধারায় এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেলসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।’

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইলডটকম)/-