ঘাটাইলে সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন, অবশেষে বন বিভাগ জব্ধ করলো সেই কাঠ

অবশেষে জব্ধ করা হলো অবৈধভাবে কাটা টাঙ্গাইলের ২ নং ঘাটাইল ইউনিয়নের নিয়ামতপুর- খিলপাড়া রাস্তার দু‘পাশের সেই সরকারি গাছ। গাছ কাটার এক মাস পর আইনি প্রক্রিয়ায় এ কাঠ জব্ধ করা হল। ঘাটাইলের ইএনও অঞ্জন কুমার সরকার এক স্মারক পত্রের (নং-২৪৫,তারিখ-২৪/০৩/২০) মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্তন করা সরকারি রাস্তার সেই কাঠ গুলো জব্ধ করে বন বিভাগের জিম্বায় রাখার নির্দেশ দেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বনবিভাগের ধলাপাড়া রেঞ্জের বটতলি ও ঝড়কা বিটের ফরেষ্টার যৌথভাবে এ কাঠ জব্ধ করে। বটতলি বিট কর্মকর্তা মামুন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ দিকে কাঠ জব্ধ করে বন কর্মকর্তাদের জিম্বায় রাখার কথা থাকলেও রাখা হয়েছে রফিক নামে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ির স‘মিলে তার হেফাজতে।

ওই ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি রাস্তার এ গাছ গুলো বিক্রি করা ও কাটার অনুমতি দেয়া সবই করেছে ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলী। আর যার হেফাজতে এ কাঠ রাখা হয়েছে সে ওই চেয়ারম্যানের সহযোগি। ফলে তারা অবিলম্বে কাঠগুলো ফরেষ্টারের জিম্বায় রেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

এ বাপারে বনবিভাগের ধলা পাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, কাঠগুলো যার কাছে রাখা হয়েছে তিনি একজন কাঠ ব্যবসায়ি। তা ছাড়া তার কাছে বনের প্লট বিক্রির বিডির টাকা আমার কাছে আছে। ফলে কোন সমস্যা হবে না।

উল্লেখ গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২ নং ঘাটাইল ইউনিয়নের নিয়ামতপুর- খিলপাড়া সরকারি রাস্তার দু পাশে থাকা ২১৮টি গাছ ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে অবৈধভাবে কেটে নিচ্ছে এলাকাবাসির এমন অভিযোগে ইউএনও স্থানীয় তহশিলদারকে দিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। আর কর্তনকৃত কিছু কাঠ জব্ধ করে সেখানেই রেখে দেয়।

এ সংক্রান্তে ইউএনও কার্যালয়ে বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের কাছে পেশাগত দায়িত্বের কারনে তার সঙ্গে কথা বলার সময় যুগান্তর সাংবাদিক খান ফজলুর রহমানের ওপর হামলা চালায় ওই ইউপি চেয়ারম্যান হায়দর আলী। পরে ইউপি চেয়ারম্যানকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন যুগান্তর ঘাটাইল প্রতিনিধি।

(খান ফজলুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-