ঘাটাইলে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন

সংবাদ সম্মেলনে অসত্য তথ্য প্রদানের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাছড়া তালিমুল কুরআন নুরানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী বৃন্দ এবং এলাকাবাসী। উপজেলার দিগর ইউনিয়নের কাছড়া গ্রামের মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আজ শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে এই মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দিগর ইউনিয়নের কাছড়া গ্রামের কয়েকটি পরিবার তাদের নিরাপত্তা চেয়ে হামিদপুর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ নিয়ে “নিরাপত্তা চেয়ে ঘাটাইলে ১০টি পরিবারের সংবাদ সম্মেলনশিরোনামে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কাছরা গ্রামের সোনা মিয়া, হোসেন আলী, সামছুল প্রমুখ। বিষয়টি পরে গ্রামবাসী, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তীতে আজ শনিবার এর প্রতিবাদে উপজেলার কাছড়া তালিমুল কুরআন নুরানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী বৃন্দ এবং এলাকাবাসী এই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, আমাদের গ্রামের সোনা মিয়া, হোসেন আলী, সামছুল প্রমুখরা সমাজে শান্তি বিনষ্ট অথবা অযথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এই সংবাদ সম্মেলন এবং সেখানে অসত্য তথ্য প্রদান করেছেন। তারা নিরাপত্তাহিনতায় নন বা তাদেরকে কেউ একঘরে করে রাখেনি। মাদ্রাসার জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে তারা এইসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

এলাকার রুস্তম আলি, মোঃ আব্দুল গফুর, জামাল হোসেন, নাজিম উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার সহ আরও অনেকের সাথে সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, সোনা মিয়ার পিতা আহম্মদ আলি ১৯৮৪ সালে গ্রামে মাদ্রাসা স্থাপনের জন্য সাত শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দান করেন। সেখানেই এতোদিন মাদ্রাসার কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু মাদ্রাসার পরিসর ক্রমেই বড় হওয়ায় এবং শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামবাসী এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সকলের সম্মতিতে কাছাকাছি ভূমিতেই মাদ্রাসা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষ্যে গ্রামবাসী এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ গ্রামেই সাড়ে ৪৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে এক বছর আগে সেখানে মাদ্রাসা স্থানান্তর করেন। পরে সোনা মিয়ার পিতার দান করা সাত শতাংশ ভূমী সকলের সম্মতিতে বিক্রয় করে সেই টাকা মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। এলাকাবাসী জানান, সোনা মিয়া মাদ্রাসায় তার পিতার দান করা সাত শতাংশ ভূমির মালিকানা দাবি করে সম্প্রতি এই সামাজিক জটিলতার সৃষ্টি করেছেন।

এলাকাবাসী আরও জানান, ১৯৮৪ সালে মাদ্রাসায় দান করা সাত শতাংশ জমি মাদ্রাসারই উন্নয়নের কাজে বিক্রয়ের বিষয়টি সোনা মিয়া গং, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য সহ ইউনিয়নটির অধিকাংশ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই শালিশি বৈঠক ২০১৯ সালের পহেলা আগস্ট মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় সোনা মিয়া গং উক্ত সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আপোষনামায়ও স্বাক্ষর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে সোনা মিয়া গোপনে টাঙ্গাইল আদালতে ২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি, সম্পাদক সহ আরও কয়েকজন গ্রামবাসীকে আসামি করে গোপনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে টাঙ্গাইল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

স্থানীয় (৭ নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত। সোনা মিয়াদের সাথে মাদ্রাসার জমি নিয়ে সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সমাধানে ইতোপূর্বে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকে সোনা মিয়া প্রমুখরা সালিশি সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও পরবর্তীতে মাদ্রাসা কমিটি ও গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আমি ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে পরামর্শ করে সামাজিকভাবে এই বিষয়টি মীমাংসা এবং সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করছি।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-