‘ঘাটাইলে যুদ্ধাপরাধীর ছেলে রসুলপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ

সম্প্রতি ‘সংবাদ প্রতিদিন’ নামক পত্রিকা ও ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ‘ঘাটাইলে যুদ্ধাপরাধীর ছেলে রসুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই ভুয়া ও মিথ্যা প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম শহীদ। তিনি গতকাল শনিবার (১৬ নভেম্বর) এক লিখিত বক্তব্যে গণমাধ্যমের নিকট এর প্রতিবাদ জানান।

লিখিত প্রতিবাদে শহিদুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের ভিতর ঘাপটি মেরে থেকে এক শ্রেণীর অনুপ্রবেশকারী লোকজন আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ নোংরা রাজনীতি ও প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ এবং ক্ষমতার চেয়ার ধরে রাখার অপকৌশল। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে এসেও আমরা সেই নোংরা রাজনীতি থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারিনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যে বা যাহারা আমি ও আমার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা, মনগড়া, বানোয়াট তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন এটা বাস্তবিক অর্থেই সুবাস ও গন্ধহীন সাদা কাগজের ফুলের মত। আমি শহিদুল ইসলাম হঠাৎ করে রাতের অন্ধকারে রসুলপুর ইউনিয়নের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেইনি। ১৫০জন কাউন্সিলরের প্রত্যাক্ষ ভোটে জেলা ও উপজেলার সম্মানীত নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিজয়ী হয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় দায়িত্বভার গ্রহন করেছি।

শহিদুল ইসলাম ঘাটাইলডটকমকে জানান, আমি শৈশব থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে সৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও নৌকা মার্কার প্রতি অকুন্ঠ ভালবাসা ও সম্মান জানিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমার গোটা পরিবার নিয়ে নৌকার প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। কোন বাঁধাই আমাকে আটকিয়ে রাখতে পারেনি। নিজের সন্তানের মত দলের প্রতিটি নেতা কর্মী থেকে শুরু করে তৃণমূল আওয়ামী লীকেও আমি সু-সংগঠিত করে বুকে আকড়ে ধরে রেখেছি।

তিনি বলেন, আমি প্রমান করেছি বিএনপি’র ঘাটি হিসাবে পরিচিত রসুলপুর ইউনিয়ন এখন আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসাবে পরিচিত। শত দুঃখ কষ্টেও নেতাকর্মীদের রেখে ভীরু, কাপুরুষের মত পালিয়ে যাইনি। সুখে দুঃখে তাদের পাশে থেকে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাঁসি আমরাই হেসেছি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আমার পরিবার নিয়ে যে ভয়ঙ্কর প্রশ্ন তোলা হয়েছে আমি সেটা ঘৃণা ভরে প্রত্যাক্ষান করি। আমার বাবা হাজী আমজাদ হোসেন ছিলেন একজন সহজ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষ। বৃহত্তর রসুলপুর ইউনিয়নে তৎকালীন ৩নং ওয়ার্ডের পর পর পাঁচবারের ইউপি সদস্য হিসাবে নির্বাচিত ছিলেন এবং একজন ন্যায় পরায়ণ বিচারক হিসাবে সামাজিক বিচারকার্য সম্পাদন করতেন। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক হিসাবে স্বাধীনতার পক্ষে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বাড়ীর পাশে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করা খাবার সহ প্রয়োজনীয় সকল কিছু আমাদের বাড়ী থেকে সরবরাহ করা হত। যুদ্ধের সময় এলাকার সকল যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য আবার বাবা উদ্ভুদ্ধ করতেন। আজ তিনি মৃত। অথচ মৃত মানুষকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা হচ্ছে।

শহিদুল ইসলাম ঘাটাইলডটকমকে বলেন, আমার ভাইদের কথা উক্ত মিথ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা নাকি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। কি ভয়ঙ্কর মিথ্যা অপপ্রচার! আমার বড় ভাই শফিকুল ইসলাম, মেঝ ভাই রফিকুল ইসলাম তারা অত্যন্ত সাদামাটা ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। জীবনে কোনদিন কারো সাথে কথা কাটাকাটি হতে কেউ দেখিনি। বড় ভাই শফিকুল ইসলাম একজন সমাজসেবক হিসাবে সমাজে পরিচিত এবং ৩নং ওয়ার্ডের একজন ইউ.পি সদস্য হিসাবে আটবছর যাবত দায়িত্ব পালন করেছেন। মেঝ ভাই রফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের একজন সক্রীয় সদস্য এবং বর্তমান ইউনিয়ন কমিটির সম্মানীত সদস্য। আমি ও আমার গোটা পরিবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামী পরিবারের একনিষ্ঠ সন্তান। জীবনে কখনও কোনদিনই আওয়ামী লীগের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি।

তিনি ঘাটাইলডটকমকে আক্ষেপের সুরে বলেন, যত দিন এ দেহে প্রাণ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ ও বিশ্বাস বুকে ধারণ করে দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথেই অবিচল থেকে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শ সৈনিক হিসাবে দলের জন্য কাজ করে যাব। কোন ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার আমাকে আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ থেকে হটাতে পারবে না। কাজেই আমার বিরুদ্ধে আনিত এই মিথ্যা ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

(বিশেষ প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-