ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করায় রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতা বিরোধী, অনুপ্রবেশকারী রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক সরকারের অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন ও অসাংবিধানিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকালে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সামনে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদাদুল হক সরকারকে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে বহিস্কারের দাবি জানানো হয়। এই সময়ের মধ্যে চেয়ারম্যানকে বহিস্কার না করা হলে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ সহ আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন মানববন্ধনে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাগণ।

রসুলপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এক দুর্নীতিগ্রস্থ নারীকে রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সনদ যাচাই করার তার কোনো অধিকার নেই। আমরা যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, মুক্তিযোদ্ধা তারা আজ এই চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতিত।

ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, নোটিশের কাগজ আমি দেখেছি। কোনো চেয়ারম্যানেরই আইনি বৈধতা নেই একজন মুক্তিযোদ্ধার সনদ যাচাই-বাছাই করার।

উপজেলা মক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র মো. শহিদুজ্জামান খান শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক কমান্ডার মো. মনিরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর, মো. রফিকুল ইসলাম, হায়দার আলী, রসুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সরোয়ার আলম রুবেল, নয়ন উদ্দিন নয়ন সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা।

উল্লেখ্য: নিজেকে রাজা দাবি করা ঘাটাইলের রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক তার ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মনিরুল ইসলামের সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি কমান্ডারের মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করবেন- এ মর্মে তাকে গত ৫ নভেম্বর নোটিশ করেছেন এবং ১১ নভেম্বর গ্রাম আদালতে হাজির হতে বলেন। চেয়ারম্যান তার স্বাক্ষরিত নোটিশে  মুক্তিযোদ্ধা মনিরুলকে গ্রাম আদালতে এর আগেও তিনবার হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ করেন। কিন্তু ম মনিরুল একবারও হাজির হননি। এছাড়া গত ৩ ও ৮ নভেম্বর চেয়ারম্যান এমদাদুলের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ে ‘ঘাটাইলে ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুলের সব সম্ভবের রসুলপুর‘ ও ‘ঘাটাইলে রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যানের হাত থেকে ছেলের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বাবার জিডি‘ শিরোনামে ঘাটাইলডটকমে দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইলডটকম)/-