ঘাটাইলে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা: পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মুকুল একাডেমির পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে ৯২ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিলেও সংশোধনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। শুধু বলা হচ্ছে- বোর্ডকে জানানো হবে। পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভুল প্রশ্নের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি যাদের কারণে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও গতকাল পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জানা যায়, গত শনিবার সারা দেশের মতো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। এর মধ্যে মুকুল একাডেমির পরীক্ষা কেন্দ্রের ৯২ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে অনিয়মিত অর্থাৎ ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দেয়া হয়। প্রশ্নপত্র পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়টি পরীক্ষককে অবহিত করলেও তারা গুরুত্ব দেননি বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। পরে পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে অভিভাবকদের জানানোর পর তারা (অভিভাবক) বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ইউএনও দিলরুবা আহমেদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের এসএসসি বাংলা ১মপত্র পরীক্ষায় ঘাটাইল উপজেলার মুকুল একাডেমি কেন্দ্রে কদমতলী হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার ৩২ জন পরীক্ষার্থীসহ মোট ৪টি বিদ্যালয়ের মোট ৯২ জন পরীক্ষার্থীর ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়। এর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। অভিভাবকরা এর প্রতিকার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব আজহারুল ইসলাম মুঠোফোনে ঘাটাইলডটকমকে বলেন, এটা ছিল নৈর্ব্যত্তিক পরীক্ষার একটি অংশ। বিষয়টি আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শামছুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমরা রেজুলেশন করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছি। জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বোর্ডের নির্দেশক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ জানান, ওই কেন্দ্রের একটি কক্ষে শুধু এমসিকিউ প্রশ্নে ২০১৯ সালের স্থলে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করেছি। এ ছাড়া, এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(রবিউল ইসলাম বাদল, ঘাটাইলডটকম)/-

213total visits,1visits today